স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিহত, এখনও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ
মানিকগঞ্জে স্কুলমাঠে গত সোমবার সকালে পিকআপ ভ্যান চাপায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিহত এবং ৪ জন আহত হওয়ার ঘটনার এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।এতে অভিযুক্তদের বিচার পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীদের স্বজন ও এলাকাবাসী।
আজ বুধবার শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সোমবার সকালে দুর্ঘটনা ঘটলেও লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে ঘটনার ৩২ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায়। সোমবার রাতে নিহতদের মরদেহ নিয়ে পরিবারের লোকজন ব্যস্ত ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তাদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।'
নিহত শিক্ষিকা ফাতেমা নাসরীনের স্বামী আওলাদ হোসেন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৩ জনকে আসামি করে অভিযোগ করেন।
আসামি করা হয়েছে-পিকআপ ভ্যানের চালকের সহকারী জুয়েল আহমেদ (২১), আব্দুল আলীম মেমোরিয়াল স্কুলের মালিক ও প্রিন্সিপাল শহিদুল ইসলাম (৫২) ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনডিইর সুপারভাইজার মফিজুর রহমান খান (৩৬)।
ওসি বলেন, 'মামলায় ৩ জনকে আসামি করা হলেও, তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে পলাতক আছে। তাদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।'
এদিকে, এ ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের ৪ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে বলে কমিটি প্রধান মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শুক্লা সরকার দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন।
সোমবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় আব্দুল আলিম মেমোরিয়াল স্কুল প্রাঙ্গণে পিকআপ ভ্যান চাপায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফাতেমা নাসরীন (৩৫) ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম (৭) নিহত হন। এ ছাড়া গুরুতর আহত হন আরও ৩ শিক্ষার্থীসহ ৬ জন।
এদিকে, ঘটনার ৩ দিনেও কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিহতের সহপাঠীরা ও এলাকাবাসী।
নিহত শিক্ষিকা ফাতেমা নাসরীনের মামা কবির হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাড়ার টাকার লোভে সেখানে গাড়িটি রাখা হয়। সেখানে গাড়িটি না রাখলে এই দুর্ঘটনা ঘটত না।'
স্থানীয় উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেন, 'বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণটি ছোট। সেখানে ছেলেমেয়েদের খেলাধুলা করার জায়গার সংকট। অথচ টাকার লোভে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাড়ির রাখার জন্য সেই জায়গা ভাড়া দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই দুর্ঘটনার দায় এড়াতে পারে না।'
২০১৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন মো. শহীদুর রহমান। নন-এমপিওভুক্ত এই বিদ্যালয়ের বর্তমানে প্রিন্সিপালের দায়িত্বেও তিনি। একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় পরিবার নিয়ে তিনি থাকেন। দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক আছেন এবং তার মুঠোফোনও বন্ধ।
বুধবার বিকেলে বক্তব্য নিতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
