স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিহত, মামলা হয়নি ২ দিনেও

মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু: পুলিশ
জাহাঙ্গীর শাহ, মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জে স্কুলমাঠে পিকআপ ভ্যান চাপায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিহত এবং ৬ জন আহত হওয়ার ঘটনায় ২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলা দায়ের হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্ত কাজ শুরু হবে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলটি বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসেও ফিরে যাচ্ছে। এ ছাড়া কোনো শিক্ষককেও সেখানে দেখা যায়নি। 

দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


 
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) শুক্লা সরকারকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান, শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা জাহান। 

শুক্লা সরকার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জেলা প্রশাসক আব্দুল লতিফ স্যার এই কমিটি গঠন করেছেন। আজ মঙ্গলবার পত্র হাতে পেয়েছি। আগামী ৫ কর্মদিবসে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। আশা করি, তদন্ত শেষ করে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।'

দুর্ঘটনার পর থেকে স্কুলটি বন্ধ রয়েছে। স্কুলের সবগুলো কক্ষেই তালা ঝুলছে। কোন শিক্ষক না থাকায় স্কুলে এসেই ফিরে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ঘটনায় ২ দিনেও কোনো মামলা দায়ের হয়নি। এ ছাড়া গাড়ির সুপারভাইজারকে আটক করা হলেও তাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্ত কাজ শুরু হবে।'

ওই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পিকআপ ভ্যানের চালক মাসুম ছুটিতে থাকায় গাড়ির সহকারী জুয়েল রানা গাড়ি চালাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর সে পালিয়েছে। তবে, গাড়ির কোনো নিবন্ধন কিংবা কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। সহকারী বা চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না সেটাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।'

ঘটনাস্থল ঘুরে এবং ওই স্কুলের শিক্ষার্থী, পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এনডিই কোম্পানির ওই গাড়িটি ভাড়ার বিনিময়ে স্কুল মাঠেই রাখা হতো। সকালে শিক্ষার্থীরা খাবার বিরতির সময় মাঠে আসে। গাড়ির চালক মাসুম ছুটিতে থাকায় সহকারী জুয়েল রানা গাড়িটি স্কুল থেকে বের করার জন্য চালু করলে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কয়েকজনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থী তাসনিম মারা যায়। বাকিদের গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিক্ষিকার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। 

এ ছাড়া হতাহতের ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন ও সমাবেশে করেছে শিক্ষার্থীরা। স্কুলটির মালিক শহিদুর রহমান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও পিকআপ চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। 

উল্লেখ্য, সোমবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় আব্দুল আলিম মেমোরিয়াল স্কুল প্রাঙ্গণে পিকআপ ভ্যান চাপায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফাতেমা নাসরিন (৩৫) ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম (৭) নিহত হন। এ ছাড়া গুরুতর আহত হন আরও ৩ শিক্ষার্থীসহ ৬ জন।