ধরলার তীর রক্ষা কাজে অনিয়মের অভিযোগ
লালমনিরহাট সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী মোগলহাট এলাকায় ধরলা নদীর ১০০ মিটার তীর রক্ষা কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
নদী তীরে জমে থাকা বালুর স্তূপ অপসারণ না করেই সিমেন্ট-বালু-পাথরের তৈরি সিসি ব্লক ডাম্পিং করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে ঠিকাদার এই কাজ করছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়রা বলেন, বালু অপসারণ না করে সিসি ব্লক ডাম্পিং করায় বর্ষা মৌসুমে পানির তোড়ে বালু সরে গিয়ে সিসি ব্লকগুলো ভেসে যেতে পারে। এতে নদী তীরে আবারও ভাঙন দেখা দিবে। নিয়ম অনুযায়ী ৭ থেকে ৮ ফুট গভীর করে সিসি ব্লকগুলো ডাম্পিং করার কথা রয়েছে। তবে সেটা করা হচ্ছে না।
স্থানীয় অধিবাসী মজিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীর কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। ঠিকাদার তার মতো করে সিসি ব্লক ডাম্পিং করেই যাচ্ছেন। তীর রক্ষার কাজটি যদি সঠিকভাবে করা না হয় তাহলে আবারও আমাদের ভাঙনের মুখে পড়তে হবে।'
স্থানীয় কৃষক কাদের আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ধরলা নদীর ভাঙনে আমরা নিঃস্ব প্রায়। আবাদি জমি, ফলের বাগান সব হারিয়ে দারিদ্র্যতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছি। নদী তীর রক্ষা কাজটি সঠিকভাবে না হলে ধরলার ভাঙনে শেষ সম্বল বসতভিটাটুকুও হারাব।'
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, মোগলহাটে ধরলা নদীর ১০০ মিটার তীর রক্ষা কাজটি ৭ বছর আগের। ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ডলি কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি শুরু করলেও তা অসম্পূর্ণ রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে কাজটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে।
ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেটি বাতিল করা হয়। পরে ৪৬ লাখ টাকা যোগ করে নতুন করে কাজটি শুরু করা হয়। সুজন কনস্ট্রাকশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান তীর রক্ষার কাজটি বাস্তবায়ন করছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল কাদের দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'শিডিউল অনুযায়ী সিসি ব্লক ডাম্পিং চলছে। কাজটি যেহেতু আগের, তাই আগেই বর্ষাকালে কয়েক হাজার সিসি ব্লক ডাম্পিং করে ভাঙন ঠেকানো হয়েছিল। এ কারণে বালু অপসারণ করার কোনো প্রয়োজন নেই।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি নিয়মিতভাবে কাজটির মনিটর করছি। যথাযথভাবে সিসি ব্লক ডাম্পিং করা হচ্ছে এবং ডাম্পিং এরপর পিচিং করা হবে। স্থানীয়রা না বুঝেই অভিযোগ করছেন। তাদেরকে বিষয়টি বুঝানো হচ্ছে।'