নদীভাঙন হুমকির পরও তীরেই নির্মাণ, বন্ধ মুজিব কিল্লার কাজ
লালমনিরহাটের সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের দ্বীপচর ফলিমারীতে গত বছর শুরু হয় মুজিব কিল্লার নির্মাণকাজ। ফেব্রুয়ারিতে শুরুর পর নদীভাঙনের হুমকিতে আগস্টে বন্ধ হয়ে যায় এর নির্মাণকাজ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধরলার ভাঙন কবলিত জায়গা থেকে মাত্র ৯০ মিটার দূরত্বে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় ভাঙন ঝুঁকিতেই ছিল প্রকল্পটি। তারপরও সেখানেই কিল্লার কাজ শুরু হয়। তারা বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকা থেকে দূরবর্তী জায়গায় করা হলে কিল্লার সুফল পেতেন তারা।
নদীর ভাঙন এখন প্রায় ১৮-২০ মিটার দূরত্বে চলে আসায় কিল্লা নিয়ে শঙ্কায় দ্বীপচরের শতাধিক পরিবার।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৫৯০ টাকা ব্যয়ে মুজিব কিল্লাটির নির্মাণ শুরু হয় গেল বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ওই বছরের ১৭ আগস্ট।
তবে এখন পর্যন্ত কিল্লার ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং ঠিকাদারেরা পুরো কাজের ৬৮ শতাংশ বিলও তুলে নিয়েছে। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরিয়ে নিয়েছে নির্মাণ সামগ্রীও।
মুজিব কিল্লাটি নির্মাণে জায়গা নির্বাচনে ভুল ছিল অভিযোগ করে স্থানীয়রা বলছেন নদীভাঙন এলাকা থেকে দূরে নির্মাণ করা হলে তারা এই ভোগান্তিতে পড়তেন না।
ফলিমারীর বাসিন্দারা জানান, এখানকার অধিকাংশ মানুষ মৎস্যজীবি। বর্ষাকালে দ্বীপচরটি পানিতে তলিয়ে যায়। তখন পরিবার আর গবাদি পশু নিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন তারা। বন্যার সময় তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মুজিব কিল্লাটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে নদীভাঙনে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় আসছে বন্যায়ও দুর্ভোগে কাটাতে হবে।
ফলিমারী দ্বীপচরের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, কিল্লাটি নির্মাণ শুরুর সময় ধরলা নদীর ভাঙন মাত্র ৮০-৯০ মিটার দূরত্বে ছিল। এই দ্বীপচরে অনেক খাস জমি আছে। নদীভাঙন থেকে একটু দূরত্বে এটি নির্মাণ করা হলে এটি ভাঙন হুমকিতে পড়ত না।
স্থানীয় কফিল মিয়া (৬৮) বলেন, 'মুজিব কিল্লাটি যখন নির্মাণ শুরু করা হয়েছিল তখন আমরা খুব খুশি ছিলাম। ভেবেছিলাম বন্যার সময় আমাদের দুর্ভোগ লাঘব হবে। কিন্তু এখন শুধু দুশ্চিন্তা আর দুশ্চিন্তা। আগে যেমন কষ্ট ভোগ করেছিলাম এবারও তেমন কষ্ট ভোগ করতে হবে।'
মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ফলিমারী দ্বীপচরে মুজিব কিল্লা নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে। সে সময় ধরলা নদীর ভাঙন ছিল ৫৫০-৬০০ মিটার দূরে। তবে গেল বছর নির্মাণকাজ শুরু করার সময় নকশা পরিবর্তন করে নতুন জায়গা নির্বাচন করা গেলে কিল্লাটি নির্মাণ সম্পন্ন হতো এবং দ্বীপচরবাসীর কল্যাণে আসতো।
ঠিকাদার শফিক রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, তিনি নির্মাণাধীন মুজিব কিল্লা থেকে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিউর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিল্লাটির নির্মাণকাজ ২০১৬ সালের নকশা মোতাবেক স্থানে শুরু করা হয়েছিল। এখন বন্ধ আছে। প্রকল্পটি সরাসরি ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আমরা সেসময় জায়গা বদলের কথা বলেছিলাম কিন্তু তা কর্ণপাত করা হয়নি। এখন নদীভাঙন আরও এগিয়ে এসেছে। নির্মাণাধীন মুজিব কিল্লাটি টেকানো মুশকিল হয়ে উঠেছে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা মাসুম ডেইলি স্টারকে বলেন, নদীভাঙন রোধ ছাড়া নির্মাণাধীন মুজিব কিল্লা রক্ষা করা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।