বৃষ্টির অভাবে কমেছে মরিচের ফলন, দাম বেড়েছে চারগুণ

এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

লালমনিরহাটে এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় মরিচের ফলন কমেছে অর্ধেকের বেশি। ফলে, একমাসের ব্যবধানে জেলায় মরিচের দাম বেড়েছে চারগুণ। বেশি দামে মরিচ বিক্রি করে চাষিরা খুশি হলেও, সন্তুষ্ট নন ক্রেতারা। কাঁচা মরিচ নিত্য প্রয়োজনীয় হওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনছেন।

চাষি, ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একমাস আগে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছিল ৩৫-৪০ টাকা দরে। এখন প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা দরে।

লালমনিরহাট শহরের থানা রোডের সিরাজুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বাজারে কাঁচা মরিচ কিনতে গিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। কাঁচা মরিচের চাহিদা থাকায় বাজারে কয়েক গুণ দাম বেড়েছে।'

m.jpg
লালমনিরহাট সদর উপজেলার সেলিমনগর গ্রামে শুক্রবার বিকেলে খেত থেকে মরিচ তুলছিলেন চাষিরা। ছবি: এস দিলীপ রায়

লালমনিরহাট সদর উপজেলার সেলিমনগর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ভরা বর্ষা মৌসুমে কোনো বৃষ্টিপাত নেই। বৃষ্টি না থাকায় মরিচের ফলন কমেছে অর্ধেকের বেশি। একমাস আগে দুই বিঘা মরিচের খেত থেকে প্রতিদিন ৫০ কেজি মরিচ পেতাম, এখন পাচ্ছি মাত্র ২০ কেজি।'

'ফলন কমায় মরিচের দাম বেড়েছে। আমরা খেত থেকে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৪৫-১৫৫ টাকা দরে পাইকারের কাছে বিক্রি করছি,' বলেন তিনি।

আদিতমারী উপজেলার ফলিমারী গ্রামের কৃষক অমল চন্দ্র বর্মণ জানান, তিনি আশি হাজার টাকা খরচ করে ৫ বিঘা জমিতে মরিচ আবাদ করেছেন। গত বছর মরিচ আবাদ করে আশানুরূপ লাভবান হয়েছিলেন। এবছর বৃষ্টি না থাকায় তেমন ফলন পাচ্ছেন না। তবে, বাজারে মরিচের দাম বাড়ায় খুশি হয়েছেন।

তিনি বলেন, 'আমি ৫ বিঘার মরিচ খেত থেকে প্রতিদিন গড়ে ৯০ কেজি মরিচ তুলতে পারছি। খেত থেকেই এসব মরিচ বিক্রি করছি।'

লালমনিরহাট শহরের গোশালা বাজারে সবজি ব্যবসায়ী নূর হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কৃষকর কাছ থেকে আমাদের বেশি দামে মরিচ কিনতে হচ্ছে। এ কারণে বেশি দামে মরিচ বিক্রি করছি। গত একমাসের চেয়ে মরিচের সরবরাহ অনেক কমেছে। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে দেশি মাছ থাকায় কাঁচা মরিচের চাহিদা থাকে।'

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এ বছর জেলায় ২৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামিম আশরাফ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বৃষ্টি কম হওয়ায় মরিচের ফলন কিছুটা কমেছে। তবে, অধিক বৃষ্টিপাত হলেও মরিচ ক্ষতিগ্রস্ত হতো। যেসব কৃষক মরিচ খেতের সঠিক যত্ন নেন তারা বেশি লাভবান হয়ে থাকেন।'