বৃষ্টির অভাবে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামে আমন চাষ ব্যাহত
লালমনিরহাট সদর উপজেলার ভোলার চওড়া গ্রামের কৃষক সুরেন্দ্র নাথ বর্মণ (৬৫) এ বছর ১২ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। সে অনুপাতে আমনের বীজতলাও প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু, প্রয়োজন মতো বৃষ্টি না হওয়ায় চাষ শুরু করতে পারছেন না তিনি।
অন্যদিকে বীজতলায় আমনের চারা লালচে হয়ে যাচ্ছে। সময় মতো রোপণ করতে না পারলে নষ্ট হয়ে যাবে সেগুলো।
বৃষ্টির জন্য অপেক্ষায় থেকে অবশেষে ডিজেল-চালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচের পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে বিঘা প্রতি আমন চাষে বাড়তি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।
কৃষক সুরেন্দ্র নাথ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে বৃষ্টির পানিতে জমি চাষ করে আমনের চারা রোপণ করেছিলাম। এ সময় প্রচুর বৃষ্টি হলেও গত দুই সপ্তাহ কোনো বৃষ্টি নেই। আমন চাষ বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। এখন বৃষ্টি না হওয়াটা কৃষির জন্য অশুভ।’
একই গ্রামের কৃষক মহসিন আলী (৬০) ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বৃষ্টি না হওয়ায় অবশেষে শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচের পানি সংগ্রহ করছি। জমি শুকিয়ে আছে। এ বছর সেচের পানি দিয়ে আমন ধান চাষে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। আমন চাষ আমাদের সবচেয়ে লাভজনক ফসল। কিন্তু, সময় মতো বৃষ্টি না হওয়ায় আমরা সমস্যায় পড়েছি।’
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট গ্রামের কৃষক আবু তালেব (৫৮) ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাড়তি টাকা ব্যয় করে সেচের পানি দিয়ে আমন চাষ আমাদের পক্ষে কষ্টের। তারপরও বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে। সময় মতো আমনের চারা রোপণ করা না হলে তা নষ্ট হয়ে যাবে। বৃষ্টি না থাকায় বীজতলায় অনেক চারা নষ্টও হয়ে গেছে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কুড়িগ্রামে এক লাখ ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ জন্যে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে সাত হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে। লালমনিরহাটে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৫ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমি। বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে চার হাজার ৪৪৮ হেক্টর জমিতে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিস সূত্র ডেইলি স্টারকে জানিয়েছে, গত ১ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ মিলিমিটার। গত বছর এই সময়ে বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ছিল ৮৮৬ মিলিমিটার।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামিম আশরাফ ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এ সময় যে পরিমাণ বৃষ্টির প্রয়োজন তার ১০ শতাংশই হচ্ছে না। অনেকটা খরা চলছে। যেহেতু বৃষ্টি নেই তাই কৃষকদের সেচের পানি দিয়ে আমনের চারা রোপণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সময় মতো বৃষ্টি না হওয়াটা জলবায়ু পরিবর্তনের মন্দ প্রভাব।’
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হক ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এ সময় বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষি বিভাগ শঙ্কিত। সম্প্রতি ধান চাষে কৃষকরা লাভবান হওয়ায় তারা যেকোনো উপায়ে আমন চাষ করবেন। তবে আশঙ্কা হলো সময় মতো চারা রোপণ করা না হলে তা নষ্ট হতে পারে।’