মৌসুমি কর্ম সংকটে লালমনিরহাট-কুড়িগ্রামের কৃষি শ্রমিক
লালমনিরহাটের ৫ উপজেলা এবং কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলার গ্রাম এলাকায় বিপুল সংখ্যক কৃষি শ্রমিক মৌসুমি কর্ম সংকটে কঠিন সময় পার করছেন।
মে মাসের শেষ সপ্তাহে বোরো ধান কাটা শুরু না হওয়া পর্যন্ত এই শ্রমিকদের সংকট অব্যাহত থাকবে।
প্রতি বছর চৈত্র ও বৈশাখ মাসে এ অঞ্চলে কৃষি মাঠে কোনো কাজ না থাকায় বেশিরভাগ শ্রমিকই কাজের খোঁজে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে যান বলে জানান স্থানীয়রা।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমন্ডল গ্রামের কৃষি শ্রমিক হায়দার আলী (৫৫) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মুই, হামার গ্রামের আরও ৫০ জন কামলা কাম খুঁইজবার জইন্যে পাথারের এলাকায় যাবার চাবার নাইকছি। এ্যালা হামার এত্যি কোনো কাম-কাজ নাই।'
তিনি আরও বলেন, 'হামরা ওত্যি কোনা ১৪-১৫ দিন কাজ করি ফিরি হামরা বাড়ি ফিরমো। তখন হামার এত্যি ধান কাটা কাম শুরু হইব।'
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামের কৃষি শ্রমিক মফিজুল ইসলাম (৪৫) বলেন, 'হামরাগুলা বগুড়া, শেরপুর, টাঙ্গাইলসহ অন্যান্য এলাকায় য্যায়া ধান কাটার কাজ করোং।'
'হামার এত্যি ধান কাটা কাম শুরু হয় নাই, সেইজন্যে হামরাগুলা কাম পাবার নাইকছি না' জানিয়ে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট গ্রামের কৃষি শ্রমিক আক্কাস আলী (৪৮) বলেন, 'হামরাগুলা দিনমজুর শ্রমিক মানুষ প্রায়ই হামার শ্রম বেচার জইন্যে টাউনোত আসি ভিড় করোং, কিন্তু টাউনোত এ্যালা কামও জুইটবার নাইকছে না। অনেকগুলা কামলা খালি হাতে বাড়িত চলি যায়। অনেক কামলা আছে গ্রামোত অগ্রিম মজুরি নেয় কৃষকের কাছ থাকি।'
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান (৬৫) জানান, মে মাসের শেষ সপ্তাহে ধান কাটা শুরু হবে। তাই এখন কৃষি শ্রমিকের কোনো কাজ নেই। মে মাসের শেষ সপ্তাহে বোরো ধান কাটা শুরু হলে শ্রমিক নিয়োগ করা হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে প্রায় ২ লাখ কৃষি শ্রমিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে অন্য কাজেও অভ্যস্ত, তবে বেশিরভাগই কৃষি কাজের ওপর নির্ভরশীল।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামীম আশরাফ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'দেরিতে ধান রোপণ করায় এই এলাকায় ধান কাটাও শুরু হয় দেরিতে। চৈত্রের মাঝামাঝি থেকে বৈশাখ পর্যন্ত কৃষি মাঠে তেমন কোনো কাজ পাওয়া যায় না। তাই কৃষি শ্রমিকরা মৌসুমি কর্ম সংকটে পড়েন।'
