লালমনিরহাট-কুড়িগ্রামের বেশিরভাগ এলাকায় কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি
লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ১৪টি উপজেলায় ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের আওতায় ৫৬ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার টাকার বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখনো বেশিরভাগ উপজেলায় কাজ শুরু হয়নি।
মৌসুমি কর্মসংকটের সময় হতদরিদ্র পরিবারের শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকার এই বরাদ্দ দিয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ দফায় ২ জেলায় গত ৯ মে থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল।
২ জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সরকার এই প্রকল্পের আওতায় লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার ৮ হাজার ৩৬৫ জন শ্রমিকের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে ১৩ কোটি ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আর কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলার ২৭ হাজার ২০০ জন তালিকাভুক্ত শ্রমিকের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
এই প্রকল্পের আওতায় ২ জেলার মোট ৩৫ হাজার ৫৬৫ জন তালিকাভুক্ত শ্রমিক আছেন। প্রত্যেক শ্রমিক প্রতিদিন কাজের বিনিময় ৪০০ টাকা মজুরি পান। প্রতি সপ্তাহে তারা ৫ দিন করে ২ মাসে ৪০ দিন কাজ করার সুযোগ পান।
কুড়িগ্রামের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও) আব্দুল হাই সরকার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, জেলার ৭৩টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র দুটি ইউনিয়নে কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার থেকে বাকি ৭১টি ইউনিয়নে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। জুন মাস পযর্ন্ত এ প্রকল্পের কাজ চলবে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা (পিআইও) মশিউর রহমান বলেন, প্রকল্পের কাজ শুরু করার জন্য উপজেলার ৯ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বলা হয়েছে। আগামী শনিবার থেকে কাজ শুরু করা হবে।
তবে আদিতমারী উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের সবগুলোতে কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ চলছে।
এ প্রকল্পের আওতায় শ্রমিকরা গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট, মসজিদ-মন্দির, কবরস্থান-শ্মশান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠে মাটি ভরাটের কাজ করে থাকেন। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের পাশাপাশি কর্মসংকটকালে হতদরিদ্র শ্রমিকরা কাজ করার সুযোগ পান।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের শ্রমিক চারু বালা (৫২) বলেন, '২ দিন ধরে কাজ শুরু হয়েছে। এখন আমরা ভেঙে যাওয়া রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ করছি। কাজটি চৈত্র মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হলে ভালো হতো।'
একই ইউনিয়নের শ্রমিক অলিমা বেওয়ার (৫০) ভাষ্য, সঠিক সময়ে কাজ শুরু হলে তা তাদের বেশি উপকারে আসে। এ জন্য আগামীতে এই প্রকল্পের কাজ সঠিক সময়ে শুরু করার দাবি জানান তিনি।