সংগঠনের জমি বিক্রির অভিযোগ লালমনিরহাটের পরিবহন নেতাদের বিরুদ্ধে
লালমনিরহাট জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ৮ শতাংশ জমি সংগঠনের নেতারা গোপনে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনটির কর্মীরা।
এর প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে শহরে বাস টার্মিনাল এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন তারা।
এ সময় পরিবহন শ্রমিকরা সংগঠনের নেতাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেন। শ্রমিকদের কল্যাণ ফান্ডের টাকায় কেনা জমি ফেরতের দাবি জানান তারা।
জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পরিবহন শ্রমিকরা এসে এ মানব বন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
শ্রমিকরা জানান, শ্রমিকদের কল্যাণ ফান্ডের ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে ২০০৮ সালে লালমনিরহাট শহরের বাস টার্মিনালের পাশে ৮ শতাংশ জমি কেনা হয় সংগঠনের নামে। সে সময় সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা এস কে ফিরোজ আজগর মিন্টু জমিটি দেখভাল করতেন।
২০১৮ সালে ভুয়া রেজুলেশন করে গোপনে জমিটি ৭ লাখ ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। এ সময় সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা আমিরুল ইসলাম ও বুলবুল আহমেদ জমির দলিলে সাক্ষী হিসেবে সই করেন।
দীর্ঘদিন গোপন থাকার পর কয়েকদিন আগে জমি বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হয়।
পরিবহন শ্রমিক হাসান আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের কল্যাণ ফান্ডের টাকায় কেনা জমি গোপনে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কয়েকজন শ্রমিক নেতা মিলে এ টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।'
'মার্চ মাসের প্রথম দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে জমি বিক্রির তথ্য জানতে পেরেছি,' তিনি বলেন।
পরিবহন শ্রমিক আইয়ুব আলী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'প্রয়োজনে আমরা আন্দোলনে নামব। আমরা সাধারণ শ্রমিক কষ্টে আছি আর শ্রমিক নেতারা গাড়ি-বাড়ি নিয়ে আরামে আছেন। নেতারা কখনই আমাদের খোঁজ রাখেন না।'
পরিবহন শ্রমিক বাপ্পি ইসলাম ডেইলি স্টারকে জানান, বিষয়টি জানার পর তারা জমির ২টি দলিল তুলেছেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে সংগঠনটির কোনো কমিটি নেই বলে জানান তিনি।
২০১৮ সালে সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা আমিরুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জমি বিক্রির টাকা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। এ টাকা জমা আছে জমি বিক্রয়কারী এস কে ফিরোজ আজগর মিন্টুর কাছে। রেজুলেশনের মাধ্যমে জমিটি বিক্রি করা হয়। আমি এ জমির দলিলে সাক্ষী হিসেবে সই করেছি।'
২০১৮ সালে সংগঠনটির দায়িত্বে থাকা সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জমিটি সংগঠনের তেমন কোনো কাজে আসেনি। তাই জমিটি বিক্রি করা হয়েছে। এস কে ফিরোজ আজগর মিন্টু এ জমিটির বিক্রয়কারী।'
জমি বিক্রয়কারী সংগঠনটির সাবেক সভাপতি এস কে ফিরোজ আজগর মিন্টুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'জটিল পরিস্থিতির কারণে সংগঠনের জমিটি বিক্রি করতে হয়েছে। আমার কাছে জমি বিক্রির টাকা জমা নেই।'
তবে কী পরিস্থিতিতে পড়ে সংগঠনের জমি বিক্রি করেছেন, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।