সনাতনী ‘চড়কি কলে’ সেচের কাজ
কেউ বলেন চড়কি কল, কেউ বলেন টোলা কল। তবে বেশিরভাগ কৃষকের কাছে এটি চড়কি কল নামেই পরিচিত।
কৃষি জমিতে পানি দেওয়া বা সেচ কাজের জন্য ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিনের প্রচলন শুরু হওয়ার আগে লালমনিরহাটসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার গ্রামগুলোতে সেচ কাজের জন্য শারীরিক শ্রমনির্ভর চড়কি কল ও ঢেঁকি কলসহ সেওতি পদ্ধতির সেচের প্রচলন ছিল।
তবে এই একুশ শতকে এসেও সনাতনী চড়কি কল পদ্ধতিতে সেচ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের খোলাহাটি গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ (৪৮)।
হামিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিজের ১ বিঘা জমির পাশাপাশি আরও ৩ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে তিনি এবার ধান চাষ করছেন। শ্যালো মেশিন ব্যবহার করে জমিতে সেচ দেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য নেই তার।
এ অবস্থায় প্রতি বছরের মতো এবারও তিনি খালের পাশে থাকা তার জমিগুলোতে সেচ দেওয়ার জন্য চড়কি কল ব্যবহার করছেন। হামিদ জানান, সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি এভাবে জমিতে পানি সেচ দিয়ে থাকেন। তবে কাজটি কষ্টসাধ্য বিধায় তাকে ২ ঘণ্টা পর পর কিছুক্ষণ করে বিশ্রাম নিতে হয়।
চড়কি কল পদ্ধতিতে পানি সেচের জন্য দরকার হয় দুটি বাঁশ, কিছু রশি আর একটি বালতি। একটি বাঁশ ব্যবহার করা হয় খুঁটি হিসেবে, অন্যটি ব্যবহার করে বালতিতে পানি তুলে জমিতে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে ১ বিঘা জমিতে পানি দিতে অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে।
জমিতে ফসল ফলানোর পাশাপাশি রিকশা চালান আব্দুল হামিদ। সংসারে আছেন স্ত্রী মঞ্জু আরা বেগম ও ৫ ছেলে-মেয়ে। জমি চাষের কাজে পরিবারের সবাই তাকে সহযোগিতা করেন। তবে সেচের কাজ একাই করেন তিনি। তার সব ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে।
আব্দুল হামিদের মতে, চড়কি কলের মাধ্যমে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট 'দম' লাগে। গোটা গ্রামের মধ্যে একমাত্র তিনিই এই পদ্ধতিতে সেচ দিচ্ছেন।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামীম আশরাফ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'একসময় চড়কি কল পদ্ধতিতে জলাশয় থেকে পানি তুলে জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করার দৃশ্য চোখে পড়ত। এখন খুব একটা দেখা যায় না। তবে খাল-বিল এলাকার কৃষকদের কেউ কেউ এখনো এই পদ্ধতিতে সেচ কাজ চালান। এতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লাগে।'