সবজির ভালো দাম পাওয়ায় তামাক চাষ কমেছে

এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

তামাকের বদলে প্রচলিত ফসল ফলিয়ে ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। এছাড়া মাটি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য তামাক চাষের ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টি উপলব্ধিতে এসেছে অনেকের। ফলে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় চলতি বছরে ২ হাজার হেক্টর জমিতে তামাক চাষ কমেছে।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, গত বছর জেলার মোট ৯ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছিল। চলতি বছরে তা কমে ৭ হাজার ৫৫০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, তামাক চাষ যেহেতু সরকারিভাবে নিষিদ্ধ নয়, তাই তারা কৃষককে সরাসরি তামাক চাষ বন্ধ করতে পরামর্শ দিতে পারেন না। তবে তামাক চাষের ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হয়ে থাকে।

tobaco_2.jpg
ছবি: স্টার

তাদের দাবি, এর ফলে চলতি বছর অনেক কৃষত তামাক চাষে বিরত আছেন। এর ধারাবাহিকতায় আগামীতে তামাক চাষ আরও কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামীম আশরাফের ভাষ্য, তামাক চাষের জন্য বিভিন্ন  কোম্পানি কৃষকদের বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক সহায়তা দিয়ে থাকে। পাশাপাশি কোম্পানির পক্ষ থেকে কৃষকদের সুদমুক্ত ঋণ সুবিধাসহ নানা আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়। তাই ক্ষতিকর জেনেও অনেক কৃষক বিভিন্ন প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে তামাক চাষ করে আসছেন।

তিনি বলেন, 'একই জমিতে লাগাতার কয়েক বছর তামাক চাষ করলে সেই জমির উর্বরতা শক্তি কমে আসে। সেইসঙ্গে ওই জমি অন্য ফসল উৎপাদনে সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করতে কৃষিবিভাগ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। চলতি বছরে তামাকে চাষের ক্ষেত্রে তার একটি প্রভাব পড়েছে।'

জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা গ্রামের কৃষক আশরাফ আলীর (৬৫) সঙ্গে কথোপকথনে শামীম আশরাফের এই বক্তব্যের সত্যতা মেলে। আশরাফ জানান, গত বছর ১০ বিঘা জমিতে তামাকের চাষ করেছিলেন। কিন্তু এ বছর তিনি তা ৪ বিঘায় নামিয়ে এনেছেন।

tobaco_3.jpg
ছবি: স্টার

পাশাপাশি আগামী বছর থেকে তিনি তামাক চাষ একেবারেই বাদ দেবেন জানিয়ে আশরাফ বলেন, 'তামাক চাষে প্রচুর শ্রম দিতে হয়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হয়। এ ছাড়া তামাক চাষের জন্য জমির উর্বরতা শক্তিও কমে যাচ্ছে।'

এদিকে আদিতমারী উপজেলার ভাদাই গ্রামের কৃষক অনিল চন্দ্র বর্মণ (৬০) জানান, গত বছর তিনি ৪ বিঘা জমিতে তামাক চাষ করলেও এ বছর পুরোপুরি বাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমি এ বছর নানা জাতের শাক-সবজি ও সরিষা লাগিয়েছি। এতে তামাকের চেয়ে অন্তত ৩ গুণ লাভ পাওয়া যাচ্ছে। কোম্পানির লোকেরা এবারো আমাকে দিয়ে তামাক চাষ করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি রাজি হইনি।'

সদর উপজেলার কর্ণপুর গ্রামের আরেক কৃষক সুবল চন্দ্র বর্মণও (৬৫) বলেন, 'এখন ধানসহ শাক-সবজি চাষে কৃষকরা বেশি লাভবান হচ্ছেন। এ কারণে গ্রামের অনেক কৃষক তামাক চাষ ছেড়ে অন্য ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। অন্য ফসলের ভালো দাম পেতে থাকলে হয়তো এ অঞ্চল থেকে এক সময় তামাক চাষ উঠেই যাবে।'