সালথায় ২ পক্ষের সংঘর্ষে ১৯ ঘর ভাঙচুর, আতঙ্কে নারীর মৃত্যু
ফরিদপুরের সালথায় ২ পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ১৯টি ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় আতঙ্কে হার্ট অ্যাটাক করা এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক মোল্লা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর মিয়াসহ ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল বুধবার রাতে যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শটগানের ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এলাকাবাসী জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান রফিক মোল্লার সঙ্গে মো. আলমগীর মিয়ার বিরোধ চলে আসছিল। খারদিয়া গ্রামে গত ১০ এপ্রিল ভ্যানচালক আমিনুল মিয়াকে হত্যার গুজব রটিয়ে অন্তত ১৪টি বাড়ি ও একটি ইটভাটায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এর জেরে রফিক মোল্লা ও মো. আলমগীর মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
গতকাল সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ২ গ্রুপের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে থাকেন। একপর্যায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় এবং রাত ১০টা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শটগানের ২৫টি গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে আতঙ্কে খারদিয়া উথলীপাড়া পাড়া গ্রামের কৃষক ওহাব মোল্লার স্ত্রী মেহেরুন বেগম (৩৫) হার্ট অ্যাটাক করেন। তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকাল ১০টায় তিনি মারা যান।
মেহেরুনের মৃত্যুর জেরে আজ সকালে পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শটগানের ৭টি গুলি ছুড়ে ২ পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শেখ সাদিক বলেন, 'গতকাল ও আজ ২ দফায় পুলিশ শটগানের ৩২টি গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান রফিক মোল্লা ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলমগীর মিয়াসহ ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। ওই এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।'