স্কুলমাঠে তামাক, বাতাসে দুর্গন্ধ, ক্লাসরুমে আটকে শিক্ষার্থীরা

এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান একই জায়গায়। ২ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ একটিই। তবে বিশাল আয়তনের ওই মাঠটির পুরোটা তামাকচাষীদের দখলে চলে যাওয়ায় খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতি বছর তামাকের মৌসুমে মাঠটির পুরোটা তামাক শুকানো ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে ব্যবহার করেন স্থানীয় তামাকচাষীরা। ফলে মার্চ মাসের পুরো সময়জুড়ে সেখানে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার কোনো সুযোগ থাকে না। পাশাপাশি তামাকের দুর্গন্ধে বাতাস ভারি হয়ে থাকায় এর একটি স্বাস্থ্যগত ও মানসিক প্রভাবও পড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর।

২ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভাষ্য, এ চিত্র প্রায় প্রতি বছরের। মাঠটি যাতে তামাক শুকানোর কাজে ব্যবহার না করা হয়, সে জন্য চাষীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু তাতে কাজ হয় না।

এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, 'মাঠে তামাক থাকায় খেলাধুলা তো করাই যায় না, তার ওপর দুর্গন্ধের কারণে ক্লাসরুমে থাকাটাও কঠিন হয়ে পড়ে। এ জন্য অনেকে এই সময়টাতে স্কুলেও আসতে চায় না।'

b.jpg
ছবি: স্টার

এ অবস্থায় ২ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই তাদের খেলার মাঠটি তামাকমুক্ত রাখার জোর দাবি জানায়।

স্থানীয় তামাকচাষী মিনাজুল হকের (৫৫) দাবি, মাঠ ব্যবহারের জন্য তারা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছেন। উৎপাদিত তামাক শুকানোর জন্য গ্রামে অন্য কোনো বড় জায়গা না থাকায়, তারা বাধ্য হয়ে এই মাঠটিই ব্যবহার করে আসছেন।

মিনাজুল বলেন, 'এ কারণে শিক্ষার্থীদের একটু সমস্যা হয় জানি। কিন্তু আমাদের কোনো উপায় নেই।'

আরেক কৃষক আশরাফুল ইসলামের (৪৮) কাছ থেকে জানা যায়, তামাক শুকানোর কাজে এই মাঠ ব্যবহারকারী চাষীর সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ জন। তারও দাবি, মাঠ ব্যবহারের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আপত্তি করেনি।

c.jpg
ছবি: স্টার

তবে দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম বলছেন, তারা কাউকে মাঠে তামাক শুকানোর অনুমতি দেননি। চাষীরা তাদের মতামতের তোয়াক্কা না করেই একই কাজ প্রতি বছর করে যাচ্ছেন।

একই কথা জানান দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজিয়া পারভিন। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, 'তামাকের দুর্গন্ধে আমরা অতিষ্ট। তামাকচাষীরা জোর করে এই মাঠ ব্যবহার করছেন। তাদের বাধা দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।'

এ অবস্থায় যত দ্রুত সম্ভর মাঠ ছেড়ে দেওয়ার জন্য তামাকচাষীদের প্রতি আহ্বান জানান এই ২ শিক্ষক। না হলে, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন তারা।