১৩ বছর পর দানকৃত জমি বিক্রির রহস্য ফাঁস

এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

২০০৯ সালে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউড়া ইউনিয়নে রসুলপুর গ্রামে রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে ৩৩ শতাংশ জমি দান করেছিলেন রেজাউল করিম সেলিম। কয়েক বছর পর তিনি গোপনে ৩ ব্যক্তির কাছে এই জমি বিক্রি করে দেন। বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ করা হয় ২০১৩ সালে। বিদ্যালয়টি বর্তমানে যে জায়গায় আছে, সে জায়গার মালিকানা দাবি করছেন ফরিদুল ইসলাম। এ বিষয়ে গত ১০ মার্চ আদালতে একটি মামলা করেছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয় স্থাপন করে ভূমিদাতা রেজাউল করিম সেলিম তার পরিবারের ২ জনকে শিক্ষকের চাকরি দেন। এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৪ জন শিক্ষক আছেন। রেজাউল যে গোপনে বিদ্যালয়ের নামে দানকৃত জমি বিক্রি করেছেন, এ রহস্য তারা জানতে পারেন চলতি বছরের মার্চে। তিনি সরকারের সঙ্গে জালিয়াতি করেছেন বলে জানান তারা।

ফরিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিদ্যালয়টি ১৩ নং দাগের জমিতে রয়েছে। এ জমির মালিক তিনি। জমি ফেরত পেতে তিনি আদালতে মামলা করেছেন। রেজাউল ৯ নং দাগের ৩৩ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে দান করেছিলেন। কিন্তু কৌশলে ১৩ নং দাগের জমির ওপর স্কুলটি নির্মাণ করেন।'

'সেলিম সরকারের সঙ্গে জালিয়াতি করেছেন। অবৈধভাবে আমার জমির ওপর স্কুল নির্মাণ করে তার পরিবারের লোকজনকে চাকরি দিয়েছেন', বলেন তিনি। 

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুস সাত্তার ডেইলি স্টারকে জানান, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে তিনি জমির এই জটিলতা জানতে পারেন। বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

'বিদ্যালয়ের নামে জমি দান করে তা বিক্রি করে ঠিক করেননি রেজাউল। এটা সরকারের সঙ্গে জালিয়াতি হয়েছে,' বলেন তিনি।

ভূমিদাতা রেজাউল করিম সেলিম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এটা ভুলবশত হয়েছে। ভুলে স্কুলটি ৯ নং দাগের পরিবর্তে ১৩ নং দাগের জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে।

তবে ক্রয়সূত্রে তিনি ১৩ নং দাগের জমিরও মালিক বলে জানান রেজাউল।

'আমি পুনরায় ১৩ নং দাগের ৩৩ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে দান করেছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জমির দলিল জমা দিয়েছি', বলেন তিনি।

রেজাউল আরও বলেন, 'ফরিদুলের কাছ থেকে আমি ১৩ নং দাগের জমি ক্রয় করেছিলাম। ফরিদুল এ জমির মালিক নন।'

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে জানান, তিনি ১৩ বছর পর স্কুলের জমির জটিলতার বিষয়ে জানতে পারেন। জমিদাতা রেজাউল ১৩ নং দাগ থেকে ৩৩ শতাংশ জমি দান করেছেন। স্কুলটি এই দাগের জমির ওপর অবস্থিত।

জমির এই দলিল গ্রহণযোগ্য হবে কিনা সে বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।

লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম নবী ডেইলি স্টারকে জানান, তিনি বিষয়টি অবগত আছেন। বিদ্যালয়ের নামে দানকৃত জমি বিক্রি করায় জালিয়াতি হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।