ইউক্রেনে প্রবাসী সরকার ও গেরিলা যুদ্ধের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা। তাই 'সম্ভাব্য পরিকল্পনা' নিয়ে কাজ করছে পশ্চিমের দেশগুলো।

আজ রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ সবে দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মিত্ররা মনে করছে—রাশিয়া প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি সামলে নিয়ে ইউক্রেনকে দীর্ঘ-রক্তক্ষয়ী সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে।

এতে আরও বলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমের দেশগুলো যে ইউক্রেনের প্রতিরোধ যুদ্ধে সহায়তা দেবে তা ধীরে ধীরে পরিষ্কার হচ্ছে।

এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কিছু না বললেও প্রতিবেদন মতে, রাশিয়ার আগ্রাসন ক্রমাগত জোরদার হওয়ায় ইউক্রেনের মিত্ররা প্রবাসী সরকার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। সে সরকারের মাধ্যমে রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে সরাসরি গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করা যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর জন্য অস্ত্র পাঠিয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

বাইডেন প্রশাসন কংগ্রেসকে ইউক্রেনে মানবিক ও সামরিক সহায়তার জন্য ১০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল দিতে বলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা ইউক্রেনে জনযুদ্ধে সহায়তা দিলে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে হতে হবে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। পাশাপাশি, শক্তিশালী প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইউক্রেনের জনগণের মনোবল চাঙা রাখতে হবে।

কর্মকর্তারা আরও মনে করছেন, রুশ সেনাদের সম্ভাব্য কিয়েভ দখলের কথা ভেবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পেন্টাগন ও অন্যান্য সংস্থাগুলো এমন 'আকস্মিক পরিকল্পনা' তৈরি করছে। তারা মনে করছে, জেলেনস্কির উচিত কিয়েভ বা ইউক্রেন ছেড়ে চলে যাওয়া।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা গণমাধ্যমটিকে বলেছেন, 'আমরা সব সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছি। এর মধ্যে আছে পোল্যান্ডে জেলেনস্কির প্রবাসী সরকার গঠন।'

জেলেনস্কি এর আগে বলেছিলেন, তিনি রাশিয়ার 'নাম্বার ওয়ান টার্গেট'। তবুও তিনি কিয়েভে রয়ে গেছেন এবং বলছেন যে তিনি কিয়েভ ছাড়বেন না। পোল্যান্ডের সীমানাবর্তী তুলনামূলক নিরাপদ লিভিভ শহরে চলে যাওয়ার বিষয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের কথা হয়েছে।

জেলেনস্কি ও তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিরাপত্তা ও তাদেরকে দ্রুত নিরাপদস্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এক শীর্ষ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা বলেছেন, 'যতদূর জানি, জেলেনস্কি কিয়েভ ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।'

জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইলো পদোলিয়াক ইউক্রেন নিয়ে 'আকস্মিক পরিকল্পনা'র বিস্তারিত জানাতে অস্বীকার করে বলেছেন, 'একটা কথাই বলতে পারি, কিয়েভ দখলে রাশিয়া যেমন প্রস্তুতি নিচ্ছে তেমনি কিয়েভ রক্ষায় ইউক্রেন প্রস্তুতি নিচ্ছে।'

রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে 'ইউক্রেনীয়দের যুদ্ধ' হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'আমরা অবশ্যই এই যুদ্ধে জিতবো। এর আর কোনো বিকল্প নেই।'

ইউক্রেনে বিরোধী ইউরোপিয়ান সলিডারিটি পার্টির সংসদ সদস্য ভলোদিমির আরিয়েভ গণমাধ্যমকে বলেন, 'অনেক আইনপ্রণেতা এখনো কিয়েভে আছেন। যুদ্ধের মধ্যেও সংসদ বসছে।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা পালানোর পরিকল্পনা করছি না। আমরা প্রতিরোধের পরিকল্পনা করছি। আমরা তো সরকারে নেই। কিন্তু, আমাদের অস্ত্র আছে। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আগ্রাসী শক্তিকে সমুচিত জবাব দেব।'

'এটাই আমাদের পরিকল্পনা,' যোগ করেন তিনি।

রুশ সেনাদের হাতে কিয়েভের পতন হলে ইউক্রেনীয় সরকারকে কীভাবে সহায়তা দেওয়া হবে তা নিয়ে মার্কিন কূটনীতিকদের মতো ইউরোপীয় কূটনীতিকরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক শীর্ষ ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেছেন, জেলেনস্কির সরকার ইউক্রেন থেকে বিতাড়িত হলেও তাকে যেন ইউক্রেনের বৈধ সরকার হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া যায় তারই অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে জাতিসংঘে রুশ আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাব পাস হয়। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছিল ১৪১টি।