বরিশাল মেডিকেল

অক্সিজেন ও লোকবল সংকটের মধ্যেও রোগীর স্বজনরা মজুদ করছে অক্সিজেন

নিজস্ব সংবাদদাতা, বরিশাল

করোনা চিকিৎসা সুষ্ঠুভাবে দেয়ার জন্যে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বেচ্ছসেবক চেয়েছে বরিশাল জেলার করোনা প্রতিরোধ কমিটি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 
আজ বুধবার বরিশাল সার্কিট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সহায়তা চাওয়া হয়। একইসঙ্গে সিলিন্ডার ও উচ্চ প্রবাহের অক্সিজেন সাপোর্ট দেয়ার ইকুয়েপমেন্ট সংকট থাকায় বিত্তশালীদের কাছে তা দেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, এখানে ৩০০ বেড থাকলেও প্রতিদিন ৩৫০ এর মতো রোগী ভর্তি থাকে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আলাদা কোনো জনবল না পাওয়ায় মূল হাসপাতালের ১০০০ বেডের লোকবল দিয়েই এই করোনো ইউনিটটি চালু রাখা হয়েছে। এখানে মানবসম্পদ স্বল্পতা, অক্সিজেন সিলিন্ডার ও ইকুয়েপমেন্ট এর স্বল্পতা আছে।
তিনি বলেন, এই হাসপাতালে করোনা ইউনিটে ডাক্তার আছে ৪০ জন যা প্রয়োজনের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। নার্স ৮০ জন যা প্রয়োজনের চার ভাগের একভাগ এবং স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে ৪৫ জন যা প্রয়োজনের ছয় ভাগের এক ভাগ। এখানে রোগীর স্বজনরা জোর করে অক্সিজেন সিলিন্ডার যার যেমন খুশি নিয়ে নিচ্ছে এর ফলে যার প্রয়োজন সে পাচ্ছে না আবার যার প্রয়োজন নেই সে একাধিক সিলিন্ডার মজুদ করছে। অনেক সময় তারা আইসিইউ দখল করে রাখছে, আনতে গিয়ে আমাদের সাথে বাক বিতন্ডা হচ্ছে। এমনকি রোগীর স্বজনরা আমাদের হুমকি দিচ্ছে, বাধ্য হয়ে পুলিশ ডাকতে হচ্ছে। এই অবস্থা নিরসনে হয় সরকারি লোকবল অথবা এই মুহূর্তের জন্য স্বেচ্ছাসেবক জরুরি। আমরা বরিশালবাসীর কাছে এই কাজে স্বেচ্ছাসেবক দেয়ার অনুরোধ জানাই অন্যথায় এই হাসপাতাল সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।'
তিনি জানান বর্তমানে মোট ৬০০ সিলিন্ডার রয়েছে, যা দিয়ে সমস্যা সমাধান সম্ভব ছিল। কিন্ত একজন একাধিক সিলিন্ডার নিয়ে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এই অবস্থা নিরসনে লোকবল দরকার। ইতোমধ্যে লোকবল নেয়ার কথা থাকলেও মামলার কারণে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে-এখন হাসপাতাল তো চালু রাখতে হবে এর জন্য স্বেচ্ছাসেবক দরকার। তবে অনেক সময় স্বেচ্ছাসেবকরা রোগীর স্বজনদের কাছে অর্থ দাবি করছে বলে অভিযোগ আসছে, এ ক্ষেত্রে একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে।
বরিশালের সিভিল সার্জন জানান, সরকারি হাসপাতালের সাথে সাথে বেসরকারি হাসপাতালে কভিড চিকিৎসার জন্য আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। এরই ধরাবাহিকতায় আমরা আমরা আম্বিয়া হাসপাতাল, রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল ও সাউথ অ্যাপোলো হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে সাউথ অ্যাপোলো হাসপাতালে কোভিড চিকিৎসা দেয়ার জন্য কাজ শুরু করার জন্য বলেছি।
করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি, বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীমউদ্দিন হায়দার জানান, যাদের সামর্থ্য আছে তারা যেন প্রাইভেট হাসপাতে চিকিৎসা নেন সেই বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করছি অবিলম্বে এটা শুরু হবে। এছাড়া নারীদের জন্য মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে ২০ বেডের  হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। বরিশাল জেনারেল হাসপাতালকে ১০০ শয্যার কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়েছে, নয় উপজেলায় প্রত্যেকটিতে ২০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে রূপ দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়েছে। পূর্বে ৩২০ শয্যার করোনা বেড থাকলেও তা বাড়িয়ে ৬০০ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা বলেন রোগী বৃদ্ধি পেলে চিকিৎসা দেয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।