অল্প দিনে সরকার ৩ হাজার কোটি টাকার ভ্যাকসিন কিনেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
করোনা প্রতিরোধে অল্প দিনে সরকার তিন হাজার কোটি টাকার ভ্যাকসিন কিনেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জাহিদ মালেক। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ভাগ্যবান, এই ভ্যাকসিনগুলো অর্ডার করতে পেরেছি। অনেক দেশ আছে যেখানে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম পুরো দমে শুরুই হয়নি। আমরা সেটা করতে পেরেছি এবং অল্প দিনে আমাদের সরকার তিন হাজার কোটি টাকার ভ্যাকসিন কিনেছে। সামনে আরও কিনতে হবে। যেগুলো অর্ডার করেছি, সেগুলোও টাকা দিয়ে কিনতে হবে। সেখানেও হাজার হাজার কোটি টাকা লাগবে। আনার, রাখার, ভ্যাকসিন প্রয়োগ করার খরচ আছে। জনগণের পাশে প্রধানমন্ত্রী আছেন।
তিনি আরও বলেন, ভ্যাকসিন পেতে এ পর্যন্ত তিন কোটি ৮৩ লাখ মানুষ রেজিস্ট্রেশন করেছেন। প্রথম ডোজের ভ্যাকসিন নিয়েছেন এক কোটি ৮৬ লাখ ও দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৮২ লাখ মানুষ। আমাদের হাতে এক কোটি ২২ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন আছে। আমরা চীনে এ পর্যন্ত সাড়ে সাত কোটি ভ্যাকসিন অর্ডার দিয়েছি। প্রথমে দেড় কোটি এবং গত কিছু দিন আগে আরও ছয় কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে দুই কোটি করে আগামী তিন মাসে ছয় কোটি ভ্যাকসিন চলে আসবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে একটি প্রস্তাবনা আমাদের কাছে এসেছিল, সাড়ে ১০ কোটি ভ্যাকসিনের। আমরা সেই সাড়ে ১০ কোটি ভ্যাকসিন কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং চুক্তি করেছি। গত ১০-১৫ দিনে বাংলাদেশ সাড়ে ১৬ কোটি ভ্যাকসিন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ভ্যাকসিনগুলো আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে দেশে চলে আসবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যে ছয় কোটি ৮০ ভ্যাকসিন কোভ্যাক্স সুবিধার মধ্যে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা, তা চলমান থাকবে— বলেন জাহিদ মালেক।
তিনি বলেন, ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্র বয়স্ক এবং শিক্ষক ও ছাত্রদের আমরা অগ্রাধিকার দেবো। মডার্না ও ফাইজার ভ্যাকসিন পাওয়ার পারে আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের দেওয়ার চেষ্টা করবো। কারণ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া যায়। ভ্যাকসিন দেওয়ার পরে স্কুলে নিতে পারলে আমাদের জন্য মঙ্গলজনক। সেই চেষ্টা আমরা করবো। করোনা পরিস্থিতির আগের তুলনায় ভালো হয়েছে। অনেক কিছু খুলে দেওয়া হয়েছে। কল-কারখানা চলছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে চলতে হবে। খুলে দেওয়ার অর্থ এই না বেপরোয়াভাবে চলবো। তাহলে সংক্রমণ আবারও বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে, যেভাবে গতবার বেড়েছিল। এখনো কোভিড চলে যায়নি।