চাটখিলে করোনার নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্রে সীমাহীন ভোগান্তি

নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে গিয়ে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের একটি কক্ষে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা সেখানে নমুনা দেওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের একটি কক্ষে করোনা পরীক্ষা করা হয়। সেখানে নমুনা দিতে গেলে অন্তত ২০ মিটার কাদা-পানির মধ্যে লাইনে দাঁড়াতে হয়। সেখানে অসুস্থ কিংবা হুইল চেয়ারে বা অক্সিজেন লাগানো জরুরি রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না।

আজ শনিবার সরেজমিনে চাটখিল মহিলা কলেজ মাঠে গিয়ে করোনার পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে আসা ব্যক্তিদের দুর্ভোগের দৃশ্য দেখা যায়।

ভোগান্তির শিকার এক রোগীর স্বজন শাহাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা তোফুরা খাতুন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩৭ মিনিটে তারা সেখানে নমুনা দিতে যান। সেখান থেকে জানানো হয় যে, সেদিন আর করোনা পরীক্ষা করা যাবে না। পরে, আজ সকাল ১০টার আগে তিনি নমুনা দিতে গিয়ে দেখেন কেন্দ্রের প্রবেশপথ কাদা-জলে একাকার।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীর মুখের অক্সিজেন খুলে কোনোরকমে কোলে করে নমুনা দিতে কেন্দ্রের নির্ধারিত কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান তিনি।

নমুনা দিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, নমুনা দিতে হলে প্রথমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে পাঁচ টাকা মূল্যের টিকিট কাটতে হয়। তারপর রোগী নিয়ে নমুনা সংগ্রহের বুথে ১০০ টাকা ফি দিয়ে ফরম পূরণ করতে হয়।

সেখানে আশঙ্কাজনক রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মহিলা কলেজের ভেতরে কাদা-জল পার হয়ে করোনা পরীক্ষার কেন্দ্র না করে, পাশেই জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে এ ব্যবস্থা করা যেত। এতে জনসাধারনের ভোগান্তি রোধ করা সম্ভব হত বলে মন্তব্য করেন অনেকে।

এ বিষয়ে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খন্দকার মোশতাক আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জায়গা না থাকায় মহিলা কলেজে করোনা পরীক্ষা নমুনা সংগ্রহের ভ্রাম্যমাণ বুথ করা হয়েছে।

নমুনা দিতে আসা ব্যক্তিদের দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, 'এর চেয়ে ভালো সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন জায়গার ব্যবস্থা করা যায়নি।'

চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা ফোকাল পারসন ও মেডিকেল অফিসার ডা. তামজিদ হোসাইন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, চাটখিল মহিলা কলেজ কেন্দ্রে প্রতিদিন ৭০-৮০ জন নমুনা দিতে আসেন। নমুনা সংগ্রহের পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষা করা হয়। এ পরীক্ষায় নমুনা নেগেটিভ এলে সেগুলোকে নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল সরকারি মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, 'প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষার জন্য রোগী ও তাদের স্বজনরা মিলে দুই শ জনেরও বেশি লোকের সমাগম ঘটে এখানে। এত লোকের চাপ কমাতে খোলামেলা পরিবেশ থাকায় মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসকে নির্বাচন করা হয়।'

যোগাযোগ করা হলে নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিবেন।