৬৩ দিন পর গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি
সাতক্ষীরায় ৬৩ দিন পর গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে কারো মৃত্যু হয়নি। তবে, কারিগরি ক্রুটির কারণে এই সময়ে কোনো নমুনা পরীক্ষা করা যায়নি।
গত ১৬ আগস্ট ৯৫টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ১৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
আজ বুধবার জেলা সিভিল সার্জন অফিসের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জয়ন্ত সরকার এ তথ্য দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কুদরত-ই-খোদা ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সাতক্ষীরার জেলায় করোনা রোগী কমতে শুরু করেছে। পাশাপাশি মৃত্যুও কমেছে। গত ১৫ জুন থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত টানা দুই মাসের বেশি সময় ধরে প্রত্যেক দিনই জেলার করোনা ডেডিকেটেড এই হাসপাতালে কেউ না কেউ মারা গেছে। দীর্ঘ ৬৩ দিন পর গত ২৪ ঘণ্টায় কারো মৃত্যু হয়নি।'
'১৫-৩০ জুন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে ৯৫ জন ও করোনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১-৩১ জুলাইয়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে ১৮৯ জন ও করোনায় আট জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ১-১৭ আগস্ট পর্যন্ত করোনা উপসর্গ নিয়ে ৬১ জন ও করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে জেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৬০৬ জন ও করোনায় ৮৬ জন', বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, 'হাসপাতলে করোনা উপসর্গ কিংবা করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও কমে আসছে। ১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত হাসপাতলে রোগীর সংখ্যা গড়ে ছিল ২৬০-২৮৫। জুলাইর শেষ সপ্তাহ থেকে রোগীর সংখ্যা কমতে থাকে। আজ রোগীর সংখ্যা ১৪০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছে ১৬ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ২৬ জন।'
জেলা সিভিল সার্জন অফিসের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জয়ন্ত সরকার জানান, জেলায় করোনা শনাক্তের হার ধীরে ধীরে কমছে। গত ১ আগস্ট ২৯৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ৮২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ২৭ দশমিক ৬১ শতাংশ, যা জেলায় একদিনে সর্বোচ্চ। আর ১৫ আগস্ট ২০৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল সাত দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা জেলায় একদিনে সর্বনিম্ন।
'চলতি মাসে শনাক্তে গড় হার ১৫-২০ শতাংশের মধ্যেই আছে। জুনে শনাক্তের গড় হার ছিল ৫০-৬৪ শতাংশ ও জুলাইয়ে ছিল ৩৫-৪০ শতাংশ', বলেন তিনি।