৬ বিভাগীয় শহর ও ১৪ জেলায় স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা

মহিউদ্দিন আলমগীর

সরকার ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচি আরও ৬ বিভাগীয় শহর এবং ১৪ জেলায় সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা করছে।

এ ৬ বিভাগীয় শহর হলো চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ। আর ১৪ জেলা হচ্ছে ঝালকাঠি, ভোলা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, যশোর, সাতক্ষীরা, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) শীর্ষ কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত সোমবার ঢাকা শহরে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার। পরদিন তা মানিকগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে সম্প্রসারিত হয়।

মাউশির পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী গতকাল বুধবার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা সারাদেশে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জেলায় কাজ শুরু করেছি। শিগগির জেলার সংখ্যা বাড়ানো হবে।'  

প্রথম দিনে প্রায় ২ হাজার, দ্বিতীয় দিনে প্রায় ১৬ হাজার এবং তৃতীয় দিনে (গতকাল) প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক শাহেদুল।

সোমবার কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, 'সরকার আরও ২১ জেলায় শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ করবে। আমরা সব জেলায় এবং সম্ভব হলে উপজেলা পর্যায়ে প্রচার চালানোর কথা ভাবছি। কোনো শিশু বাদ যাবে না।'

কর্মসূচি যেমন চলছে

গতকাল ২টি টিকাকেন্দ্র পরিদর্শন করে এ প্রতিবেদক দেখতে পান, স্কুলশিক্ষার্থীরা কোনো ঝামেলা ছাড়া সহজেই টিকা পাচ্ছে। বাচ্চাদের যেন দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে না হয়, সেজন্য কয়েকজন অভিভাবক কেন্দ্রগুলোতে আরও বুথ স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।  

মিরপুরের স্কলাসটিকা স্কুল এবং ঢাকা কমার্স কলেজ ক্যাম্পাসে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকার বুথের সামনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। স্কলাস্টিকা স্কুল কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারলেও, ঢাকা কমার্স কলেজ মাঝেমাঝে পারেনি।

এ ২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২টির প্রতিটিতে বিভিন্ন স্কুলের ২ হাজার শিক্ষার্থী টিকা নিয়েছে।

গতকাল মিরপুর শাখায় উপস্থিত স্কলাস্টিকা স্কুলের উত্তরা শাখার অধ্যক্ষ ফারাহ এস আহমেদ জানান, মিরপুর শাখায় ১১টি বুথ রয়েছে। ঢাকা কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু মাসুদ জানান, কলেজে ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে।

তবে ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটিতেই ২৫টি করে বুথ স্থাপনের সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মিরপুর বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নুরুল হক বলেন, 'সরকার আগে বলেছিল টিকা দেওয়ার জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে ২৫টি বুথ থাকবে। যদি তারা ১০-১১টির জায়গায় ২৫টি বুথ স্থাপন করতে পারে, তাহলে টিকাদান কার্যক্রম সহজ হবে এবং শিক্ষার্থীদের লাইনে দাঁড়াতে হবে না।'

টিকাদান কার্যক্রম শুরুর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শামসুল হক বলেছিলেন, ঢাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে ২৫টি করে বুথ স্থাপন করা হবে এবং ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে মোট ৮টি টিকাদান কেন্দ্র থাকবে।

ঢাকার এ ৮টি কেন্দ্রে প্রতিদিন সব মিলিয়ে ৪০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার কথা ছিল। অর্থাৎ প্রতিটি স্কুলে দিনে অন্তত ৫ হাজার টিকা দেওয়ার কথা ছিল।

ঢাকার সিভিল সার্জন আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান গতকাল ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা ধীরে ধীরে বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি করব। কোনো বিশৃঙ্খলা যেন না হয়, সেজন্য ধীরগতিতে কাজ করছি আমরা। কারণ শিশুদের টিকা দেওয়ার বিষয় এটি।'

অনুবাদ করেছেন জারীন তাসনিম