মনিরা শরমিন
সহকারী অধ্যাপক, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশন, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ; চলচ্চিত্র সমালোচক
জেল-জমানার ওসি হারুন: সিস্টেমের মহানগরে সিস্টেমবাজ সুপারহিরো
তিনি ভয়ঙ্কর বুদ্ধিমান, কুটিল, অর্থলোভী। অসহায় মানুষকে নিয়ে খেলতে-খেলাতে ভালোবাসেন। তবে তাদের ‘ক্ষতি’ করেন না। ‘মেয়ে এবং মদের’ দোষ নেই তার একেবারেই। তবে তিনি সিগারেটে বুঁদ। ধোঁয়ায় ধোঁয়ায় বুদ্ধি খোলা আর খেলানোই তার কাজ।
৩০ এপ্রিল ২০২৩, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন
কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া: প্রান্তজনের বিদীর্ন-বিষন্নতার চিত্রণ
সে অনেকদিন আগের কথা। কোনো এক নামীদামি আলোকজ্জ্বল কৃষি বিষয়ক সভায় শুনেছিলাম, কৃষি নাকি আর কৃষকের হাতে থাকবে না। আরও অনেকদিন পরে জেনেছিলাম ধানের থেকে বাওকুল লাগালে নাকি লাভ অনেক বেশি। বাবার ধানি জমিতে সন্তান বাওকুল লাগিয়ে বাম্পার ফলন ঘরে তুলেছেন। ধান লাগিয়ে লাভ কি তবে? লাভ তো আছেই। এবার তবে কৃষির দায় বর্তাবে বহুজাতিকের হাতে। প্যাকেটে প্যাকেটে সাদা চাল পৌঁছে যাবে নগরীর আনাচে-কানাচে। অথবা ক্ষুদ্র ঋণের কারবার হবে এ দফায়। ১০ হাজার টাকার ঋণ, শোধ হবে ২৪ সপ্তাহে। হপ্তাপ্রতি ৬০০ টাকা করে। তবু কি শেষ রক্ষা হবে কৃষকের? তবু কি তিনবেলা ভাত জুটবে তার? মনে হয় না। তাই কৃষক হবেন উদ্বাস্তু, শহরমুখী হবে তার যাত্রা। বিশাল শহরে হয়তো রিকশাওয়ালা বা দিনমজুর হওয়ার লড়াইয়ে শামিল হবেন ধানি জমির কৃষক। হবেন কুড়া পক্ষী, শূন্য হবে যাদের শেষ সীমানা।
২১ নভেম্বর ২০২২, ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন
পরাণ: বাস্তবতার ছদ্ম উপস্থাপন আর নারী বিদ্বেষের বয়ান
কলকাতার সিনেমাগুলোর একটা বড় অংশ যেমন আমরা রাবিন্দ্রিক লেন্স থেকে চিত্রায়িত হতে দেখি, ঠিক তেমনি হাল আমলে দেশি চলচ্চিত্রগুলো একটু খেয়াল করলে দেখব এর বড় অংশের বয়ান বিবৃত হয় থানা বা পুলিশি লেন্স থেকে। এই সময়ের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র পরাণ (২০২২)-এও এর ব্যাত্যয় ঘটে না। গল্পের শুরু থানা থেকেই, শেষও এখানে। আর গল্প এগিয়ে যায় রায়হান রাফি তথা আম পাবলিকের বিবেক হিসেবে আবির্ভূত পুলিশ কর্মকর্তার বিবিধ জেরার মধ্য দিয়ে। ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রের মূল প্রটাগনিস্টের (প্রধান চরিত্র) পাশাপাশি এন্টাগনিস্ট (খল বা বিপরীত চরিত্র) অনন্যার (বিদ্যা সিনহা মিম) জবানবন্দিতেই জানতে থাকি, এই নারী আসলে কত খারাপ!
১ আগস্ট ২০২২, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
স্মৃতিতে কবরী: নায়িকা ‘সাহসিকা’র আখ্যান
সেই যে মেয়েটি খুব অল্প বয়সেই চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাড়ি জমালেন সিনেমায় অভিনয় করবেন বলে, তিনি মিনা পাল। অভিনয় শিল্পী হবার আকাঙ্ক্ষা তার ছিল না। তবে নৃত্যশিল্পী হবার বাসনা ছিল। তবে ভাগ্য বা কিছুটা দারিদ্র তাকে এনে হাজির করল অভিনয়ের দোরগোড়ায়। চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গিবাজার থেকে এফডিসিতে এসে হৃদয় হরণ করলেন মানুষের। এমনি এমনি কি মন কাড়া যায় অজস্র, লক্ষ-কোটি মানুষের? হারাতে হয় না কি কিছুই?
১৭ এপ্রিল ২০২২, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন