সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেলের তেল কিনতে লাগবে ‘ফুয়েল কার্ড’

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নিতে এখন থেকে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরযুক্ত ‘ফুয়েল কার্ড’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন এ নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার আগেই জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলচালকদের দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে।

গত বুধবার রাতে জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বুধবার সন্ধ্যার দিকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে না।

তথ্য কর্মকর্তা জাহারুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট থেকে ফুয়েল কার্ড ডাউনলোড করা যাবে। এই কার্ডে চালকের বিভিন্ন তথ্যের পাশাপাশি তার মোটরসাইকেলের তথ্য উল্লেখ করতে হবে। তেল কিনতে এই কার্ড নিয়ে পাম্পে যেতে হবে। মোটরসাইকেলে কতটা তেল দেওয়া হলো সেই তথ্য পাম্প কর্তৃপক্ষ কার্ডে লিখে দেবে। নির্ধারিত পরিমাণের বেশি কেউ তেল নিতে পারবেন না।’

তবে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফুয়েল কার্ডের নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়নি বলেও জানান জেলা তথ্য কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ফিলিং স্টেশনের মালিক জানান, জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৩ লাখ থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার লিটার ডিজেল, ৪৫ থেকে ৫০ হাজার লিটার পেট্রোল এবং ২০ থেকে ২২ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদা রয়েছে। তবে খুলনার ডিপো থেকে অনেক দিনই চাহিদার মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কোনো দিন সরবরাহ এলেও পরদিন তা বন্ধ থাকে—এমন ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরায় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মোটরসাইকেল রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মোটরসাইকেল ভাড়ায় যাত্রী বহন করে। এ ছাড়া দুই থেকে তিন হাজার ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাস চলাচল করে। এসব যানবাহনের পাশাপাশি কৃষিজমির সেচযন্ত্র ও বিভিন্ন স্প্রে মেশিন চালাতেও পেট্রোল প্রয়োজন হয়।

জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে হবে। এ সময়ের বাইরে কোনো ফিলিং স্টেশন বা ডিলার পয়েন্টে তেল সরবরাহ করা যাবে না। তেল নেওয়ার সময় চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ট্যাক্স টোকেন সঙ্গে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে হেলমেট পরা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফুয়েল কার্ড জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। পাশাপাশি প্লাস্টিকের বোতল বা ড্রামসহ কোনো কনটেইনারে জ্বালানি তেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুমোদিত ফিলিং স্টেশন ছাড়া খোলাবাজারে জ্বালানি তেলের ক্রয়-বিক্রয়ও বন্ধ থাকবে। নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।

নতুন এ সিদ্ধান্তের খবরে বুধবার রাত থেকেই জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলচালকদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকেই এটিকে নতুন ভোগান্তির কারণ হিসেবে দেখছেন।

তালা উপজেলার কুমিরা গ্রামের ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালক প্রহ্লাদ হালদার বলেন, কয়েক দিন ধরে ফিলিং স্টেশন থেকে পেট্রোল না পেয়ে তিনি গ্রামের দোকান থেকে বেশি দামে কিনতেন। এখন সেখান থেকেও জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও তিনি পেট্রোল পাননি। ফলে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিনি মোটরসাইকেল চালাতে পারছেন না।

একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন ডিবিসি টেলিভিশনের প্রতিনিধি বেলাল হোসাইন ও ৭১ টেলিভিশনের প্রতিনিধি বরুণ ব্যানার্জি। পেট্রোলসংকটের কারণে বুধবার থেকে তারা মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ রেখেছেন।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, সংবাদ সংগ্রহের কাজে সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত জেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে হয়। অধিকাংশেরই একমাত্র বাহন মোটরসাইকেল। তাই জরুরি সেবা বিবেচনায় সাংবাদিকদের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।