যতদিন আমি প্রধানমন্ত্রী, ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র যাবে না: নেতানিয়াহু

স্টার অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও আরব দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা যেদিকেই যাক না কেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

আজ রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমন বার্তা দিয়েছেন নেতানিয়াহু।

বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনাও প্রত্যাখ্যান করেছেন নেতানিয়াহু।

ইরান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই—চুক্তি হোক বা না হোক, যতদিন আমি প্রধানমন্ত্রী আছি, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’

একইসঙ্গে হামাসকে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলেও জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, ‘১৫ দফার নথিটি প্রত্যাখ্যান করছে ইসরায়েল। আমাদের সেনা ও নাগরিকদের জন্য হুমকি তৈরি হলে তা প্রতিহত করার কাজও চলবে।’

গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি সামরিক যান চলাচল করছে। ২ আগস্ট, ২০২৬। ছবি: রয়টার্স 

গাজা পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘তাদের কিছু প্রস্তাব আছে, যার কয়েকটি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য, আবার কয়েকটি নয়। এসব বিষয়ে নিজেদের অবস্থানে কীভাবে অটল থাকতে হয়, তা আমরা জানি।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার সমালোচনা করে আসছিলেন নেতানিয়াহু। তবে নির্বাচনের আগে নিজ দলের কট্টর ডানপন্থী অংশের চাপের মুখে এবার তিনি প্রকাশ্যেই পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করলেন।

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সর্বশেষ ধাপ হিসেবে এই পরিকল্পনা সামনে আসে। যুদ্ধবিরতির ফলে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন গঠিত ফিলিস্তিনি শাসনব্যবস্থার কাছে অস্ত্র হস্তান্তর করবে হামাস। আর হামাস নিরস্ত্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করবে।

এএফপি আরও জানায়, বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে ইসরায়েলে সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহু বর্তমানে নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে রয়েছেন।