ইরানের বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণে নিহত ১, আহত ১৪

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বন্দর আব্বাসে এক বিস্ফোরণে অন্তত একজন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছেন।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহরের বরাতে রয়টার্স জানায়, শনিবার বন্দর আব্বাসের একটি ভবনে গ্যাস লিক থেকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের প্রধান মোহাম্মদ আমিন লিয়াকাত মেহরকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিস্ফোরণটি গ্যাস লিকের কারণে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বান্দার আব্বাসে যে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বলা হয়েছিল ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর একজন কমান্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল—এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এদিকে, ইরাক সীমান্তবর্তী ইরানের আহভাজ শহরে শনিবার গ্যাস বিস্ফোরণের পৃথক এক ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান টাইমস। তাৎক্ষণিক এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

দুইজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, শনিবারের বিস্ফোরণগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পেন্টাগনকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও তারা কোনো উত্তর দেয়নি।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের উত্তেজনার মধ্যে এসব বিস্ফোরণ দেশজুড়ে নিরাপত্তা ও উদ্বেগের মাত্রা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২২ জানুয়ারি বলেন, যুদ্ধজাহাজের একটি নৌবহর (আর্মাদা) ইরানের দিকে যাচ্ছে। 

একাধিক সূত্র শুক্রবার জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভাবছেন ট্রাম্প। এসব বিকল্পের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলাও রয়েছে।

ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি শনিবার এক্সে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার একটি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে যে উত্তেজনা তৈরি করা হচ্ছে, তা আসলে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদক জ্যাকি হাইনরিখকে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনা করছে, তাই কী হয় তা দেখা যাবে। হাইনরিখ এক্সে এ কথা লেখেন।

হাইনরিখ ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখেন, আপনি জানেন, শেষবার তারা যখন আলোচনা করেছিল, আমাদের তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সরিয়ে নিতে হয়েছিল, সেটা কাজ করেনি। তারপর আমরা অন্যভাবে সেটি সরিয়ে নিয়েছি, এখন দেখা যাবে কী হয়।

শনিবারের দুই বিস্ফোরণের আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তারা ইরানের অর্থনৈতিক সমস্যাকে কাজে লাগাচ্ছেন, অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন এবং মানুষকে দেশের একতা ভাঙতে প্ররোচিত করছেন।

ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার বন্দর বান্দার আব্বাস হরমুজ প্রণালীর পাশে অবস্থিত। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল যাতায়াত করে।

গত বছরের এপ্রিল মাসে এই বন্দরে বড় ধরনের একটি বিস্ফোরণে ২০ জনের বেশি নিহত এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। সে সময় গঠিত তদন্ত কমিটি বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নীতিমালা মানতে ঘাটতিকে বিস্ফোরণের কারণ হিসেবে দায়ী করেছিল।

ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে গত ডিসেম্বরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ থেকে ধর্মীয় শাসনের অবসানের দাবি ওঠে। সরকার শক্ত হাতে বিক্ষোভ দমন করে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভে অন্তত ছয় হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে শত শত নিরাপত্তা সদস্যও রয়েছেন।