ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনার মধ্যেই ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করল মার্কিন রণতরী
পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা কমাতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বহুল প্রতীক্ষিত আলোচনা ও দরকষাকষি শুরু হয়েছে। গতকাল এই আলোচনা শুরুর বিষয়টি জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পরবর্তীতে আলোচনা শুরু ও অব্যাহত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বয়ং।
এই আলোচনা চলার মধ্যেই ঘটেছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
আরব সাগরে মোতায়েন মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের খুব কাছে চলে আসে ইরানের একটি ড্রোন। মার্কিন বাহিনী গুলি করে ড্রোনটি ভূপাতিত করে।
আজ বুধবার এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, আরব সাগরে ইরানের একটি ড্রোন তাদের বিমানবাহী রণতরীর কাছাকাছি চলে আসায় সেটি ভূপাতিত করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে এ মুহূর্তে আলোচনা চলছে। তবে সেই আলোচনা কোথায় হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকার করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘এ আলোচনা বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে; কিন্তু আলোচনা যে হচ্ছে—এটা নিশ্চিত। তারা কিছু একটা করতে চায়। এখন দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কিছু হয় কি না। তারা কিছুদিন আগেও একটি সুযোগ পেয়েছিল; কিন্তু তখন বিষয়টি কার্যকর হয়নি।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা ‘‘মিডনাইট হ্যামার” অভিযান চালিয়েছিলাম। আমার মনে হয়, তারা এমন কিছু আবার ঘটতে দিতে চায় না।’
গত বছরের জুনে ইসরায়েল-ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালীন সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনী যৌথভাবে ইরানের ফর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানে অবস্থিত তিনটি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। মিত্র ইসরায়েলকে সহায়তা দিতেই ওই অভিযান চালায় ওয়াশিংটন।
দুই পক্ষের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকেই পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরানকে আলোচনায় বসতে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় ইরানে হামলা চালানোর হুমকিও দেন এই বিশ্বনেতা।
এসবের মধ্যেই গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নামের বিমানবাহী রণতরীটিকে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করে। এতে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আঞ্চলিক শক্তিধর দেশগুলোর উদ্যোগে ওয়াশিংটন-তেহরানের সমস্যার কূটনীতিক সমাধানের চেষ্টা জোরদার হয়েছে। এতে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে।
গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে সংস্কারবাদি নেতা হিসেবে পরিচিত পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে 'ইতিবাচক পরিবেশে, হুমকি ও অযৌক্তিক প্রত্যাশাবিহীন একটি ন্যায্য ও সমতাপূর্ণ দরকষাকষিতে অংশ নেওয়ার জন্য আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছি।'
তিনি বলেন, 'জাতীয় স্বার্থকে আমলে নিয়েই' এ ধরনের আলোচনায় অংশ নেব আমরা।
ইরানের প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, আত্মরক্ষার্থে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থেকে একটি যুদ্ধবিমান উড়ে যেয়ে ইরানের ড্রোনে হামলা চালায়। এতে ড্রোনটি ভূপাতিত হয়।
সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, ‘বিমানবাহী রণতরী ও তাতে থাকা সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এফ–৩৫সি যুদ্ধবিমানটি ইরানে তৈরি শাহেদ–১৩৯ মডেলের ড্রোনটিকে ভূপাতিত করে। সে সময় রণতরীটি ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।
ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ড্রোনটি রণতরীর দিকে আগ্রাসীভাবে এগিয়ে আসছিল।
আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী উত্তেজনা কমানোর নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও ড্রোনটি জাহাজটির দিকে আসতে থাকে বলে তিনি দাবি করেন।