কোটা নয়, মেধা বিবেচনায় আমার বাংলা একাডেমি পুরস্কার: ইসরাইল খান

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

এ বছর গবেষণায় বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন ড. ইসরাইল খান। তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র হলো পূর্ব বাংলার প্রগতিশীল সাময়িকপত্র ও বাংলাদেশের জাতীয় কবি নজরুল।

পুরস্কারের তালিকা ঘোষণার পর আজ মঙ্গলবার সকালে ড. ইসরাইল খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘যখন সবাই বলছে, দেশে তদবির ছাড়া পুরস্কার পাওয়া যায় না, তখন আমার বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়া ব্যতিক্রমী ঘটনা। এমনকি জুলাই অভ্যুত্থানের পরেও অনেকে কোটায় বিভিন্ন কিছু পেয়েছে।’
তার ভাষ্য, ‘তবে আমি মনে করি, আমার এই অর্জন কোটা না মেধা বিবেচনায় হয়েছে।’

‘ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ দেখিনি, কেবল দেশ ও সমাজ সংস্কৃতি বিবেচনা করে দিনের পর দিন কাজ করে গেছি। আমার কাজ অনেক গবেষকের হাজারো কর্মঘণ্টা বাঁচিয়ে দিবে। তাই পুরস্কার প্রাপ্তিকে বড় কিছু মনে হয়নি। কারণ আমার কাছে মানুষের ভালোবাসা নিয়ে পথচলা চলতে পারাটাই আনন্দের।’ 
ড. ইসরাইল খান ১৯৫৭ সালের ২১ এপ্রিল গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে উচ্চতর শিক্ষা এবং ১৯৯৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৃত্তি নিয়ে গবেষণা করেছেন। এছাড়া সাহিত্য কাগজ স্বকীয়তা (১৯৭৬-৮৫) সম্পাদনা করেছেন।

তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে আছে—পূর্ব বাংলার সাময়িকপত্র (১৯৯৯), বাংলা সাময়িকপত্র : পাকিস্তান পর্ব (২০০৪), মুসলিম সম্পাদিত ও প্রকাশিত বাংলা সাময়িকপত্র (১৯৩১-৪৭), বন্দি বিবেক সমাজ ও সাহিত্য জগতে বৈশ্যবৃত্তি (১৯৯০), বাঙলাদেশের রাজনীতি ও ভাষা পরিস্থিতি (১৯৯১), মোহাম্মদ লুৎফর রহমান : জীবন ও চিন্তাধারা (১৯৯৮)।

এ বছর বাংলা একাডেমি পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকায় আরও আছেন—কবিতায় মোহন রায়হান, কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস, প্রবন্ধ-গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক, শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ, অনুবাদে আলী আহমদ, গবেষণায় মুস্তাফা মজিদ ও ড. ইসরাইল খান, বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী এবং মুক্তিযুদ্ধে মঈদুল হাসান।