কক্সবাজার আদালত চত্বরে গুলি: আহত ১, বিদেশি পিস্তলসহ আটক ১
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে মামলার শুনানির জন্য আসা বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিনসহ এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
আজ রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার একটি মামলার শুনানির জন্য আদালতে এসেছিলেন। মূলত তাকে লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়।
ওসি বলেন, লিয়াকত আলীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে তিনি দ্রুত সরে যান। এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য এক ব্যক্তির গায়ে গুলি লাগে।
গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির নাম মইনুদ্দিন। তিনি লিয়াকত আলীর চাচাতো ভাই এবং শহরের লিঙ্ক রোড এলাকার বাসিন্দা। মইনকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশ জানায়, হামলার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে জিয়াউল হক জিয়া নামের এক যুবককে আটক করা হয়। তিনি ঈদগাঁও উপজেলার কালিরছড়া এলাকার বাসিন্দা। আটকের সময় উপস্থিত জনতার গণপিটুনিতে তিনি আহত হন। বর্তমানে তিনি পুলিশ পাহারায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, নয় রাউন্ড গুলি ও চারটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হামলা হয়েছে। এর আগেও লিয়াকত আলীর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
তবে এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্তের স্বার্থে এখনই জানাতে চায়নি পুলিশ।
ঘটনার সময় দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভেতরে ছিলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুর রশিদ।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ পূর্ব দিক থেকে পরপর বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শুনতে পাই। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি, একটি সাদা রঙের বিলাসবহুল গাড়ির পাশে দুজন রক্তাক্ত মানুষ পড়ে আছেন। তাদের একজন পরে দৌড়ে আদালতের ভেতরে চলে আসেন।
আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার ও প্রবেশ পথগুলোতে নিয়মিত চেকপোস্ট বসানোর দাবি জানান এই আইনজীবী।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন ব্যক্তি এক যুবককে জোর করে একটি সাদা রঙের এসইউভি গাড়িতে তুলছেন এবং গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। গাড়িটি বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীর বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী নিশ্চিত করেন যে, জোর করে গাড়িতে তোলা ওই ব্যক্তিই আটক হওয়া সন্দেহভাজন হামলাকারী জিয়াউল হক জিয়া।