‘ইন্টারনেট অফিসে হামলার আগে বাকলিয়া-চান্দগাঁও-রাউজান থেকে লোকজন জড়ো করা হয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে হামলার আগে বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও রাউজান এলাকা থেকে যুবকদের জড়ো করে ছোট ছোট দলে ভাগ করা হয় বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

আজ রোববার দুপুরে র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

গত ১৩ জুলাই বন্দরনগরীর বাকলিয়া অ্যাক্সেস সড়কের ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

ওই ঘটনায় শনিবার রাতে আরও ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এ নিয়ে ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, নতুন গ্রেপ্তার ৯ জন সরাসরি ওই ভাঙচুর ও লুটপাটে অংশ নিয়েছিলেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. মাইকেল রোহেন মিয়া ওরফে মাইকেল (৩১), মো. তুহিন (২২), আকবর হোসেন (৩৮), মো. আবদুল মুমিন (৩০), মো. মাসাদ মিয়া (২৭), মো. দিদার মিয়া (২২), সানজাত হাসান (১৮), সাইরাত হোসেন (১৮) ও মো. সাইফুদ্দিন (৩২)।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, 'শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নির্দেশে গ্রেপ্তার মাইকেল ও আরও দুজন বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও রাউজান থেকে যুবকদের জড়ো করে ডিডিএন অফিসে হামলা চালিয়ে চাঁদা আদায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।'

'দলগুলো বাকলিয়া এলাকায় এসে কয়েকটি ছোট দলে বিভক্ত হয়। একটি দল সড়কে অবস্থান নিয়ে পুলিশ ও র‌্যাবের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সরবরাহ করে। আরেকটি দল অফিসে ঢুকে হামলা-ভাঙচুর চালায়। আরেকটি দল ব্যাকআপ হিসেবে অফিসের নিচে ছিল,' যোগ করেন তিনি।

র‍্যাব অধিনায়ক বলেন, 'সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আমরা গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৫ জনকে চিহ্নিত করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।'

অন্যদিকে, চকবাজার থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে হামলায় ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্স চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই গাড়িতে ঘটনাস্থলে যায় হামলাকারীরা।

পুলিশ জানায়, ডিডিএন অফিসে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের নেতৃত্বে ছিলেন মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। তিনি পুলিশের ও ইন্টারপোলের চট্টগ্রামের শীর্ষ মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদের’ ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে অভিযোগ আছে।

ডিডিএন কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শনিবার প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুনকে বিদেশি নম্বর থেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দেওয়া একজন হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ‘ব্যবসা করতে চাইলে এককালীন ২ কোটি টাকা ও প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা’ চাঁদা দাবি করেন। পরদিন আবার ফোন করলে তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

পরে ১৩ জুলাই দুপুরে ধারালো অস্ত্রধারী ৩০-৩৫ জন হঠাৎ ডিডিএন কার্যালয়ে ঢুকে আসবাবপত্র ও কম্পিউটার ভাঙচুর শুরু করে। তারা কার্যালয় থেকে নগদ টাকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুট করে প্রায় পাঁচ মিনিট পর চলে যায়। হামলাকারীদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক ছিল।