ফরিদপুরে মাদক চোরাকারবারের অভিযোগে বাড়ি ভাঙচুর, শহর ছাড়ার আল্টিমেটাম

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর

মাদক চোরাকারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে ফরিদপুর শহরে এক নারী ও তার দুই ছেলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছেন স্থানীয়রা।

একই সঙ্গে আগামী রোববারের মধ্যে পরিবারটিকে শহর ছাড়ার ‘আল্টিমেটাম’ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ভাটিলক্ষ্মীপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, জুমার নামাজের পর টেপাখোলা ও ভাটিলক্ষ্মীপুর এলাকার প্রায় শতাধিক বাসিন্দা লাঠি ও লোহার রড নিয়ে মৃত হালিম শেখের স্ত্রী মিলনী বেগমের (৫২) বাড়ির দিকে যান।

একপর্যায়ে ওই নারীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুটি টিনশেড ঘর ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ—মিলনী, তার দুই ছেলে বাবু শেখ (৩৫) ও লাবু শেখ (৩১) এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে মদনখালী স্লুইসগেটের কাছে সরকারি খাস জমিতে বসবাস করে সেখানে মাদক চোরাকারবার করছিলেন।

বারবার সতর্ক করার পরও তারা এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা আরও জানান, বিক্ষোভকারীরা বাড়িতে যাওয়ার আগেই মিলনী ও তার পরিবারের সদস্যরা সেখান থেকে চলে যাওয়ায় হামলা থেকে বেঁচে যান।

এলাকার বাসিন্দা রুবেল হোসেন দুলাল অভিযোগ করেন, মিলনী, তার দুই ছেলে, মেয়ে ও ভাগনে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

দুলাল বলেন, ‘আমরা চাই তারা ফরিদপুর জেলা ছেড়ে চলে যাক। আগামী রোববারের মধ্যে তাদের চলে যেতে হবে। তা না হলে ওই দিন জোহরের নামাজের পর আমরা আবার আসব, তাদের বাড়িঘর ভেঙে নদীতে ফেলে দেব।’

ওসি মো. মাহমুদুল হাসান জানান, মিলনী ও তার ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাকারবারে জড়িত—এমন অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে মাদক-সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি  বলেন, ‘কিছু স্থানীয় বাসিন্দা তাদের বাড়িতে হামলা চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

মিলনী ও তার সন্তানদের বিরুদ্ধে মাদক-সংক্রান্ত কতটি মামলা রয়েছে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘নথিপত্র দেখে এ বিষয়ে বলতে হবে।’