নির্বাচন কমিশন এখন পোস্ট অফিসের ভূমিকায়: সুজন সম্পাদক

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

নির্বাচন কমিশন এখন পোস্ট অফিসের ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সুজন সম্পাদক বলেন, ‘আমরা অনুরোধ করেছিলাম, ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকসহ যেসব ক্ষেত্রে অযোগ্যতা আছে, সেগুলোর ব্যাপারে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নিয়ে যেন গেজেট প্রকাশ করে। আমরা আরও বলেছিলাম, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কি না ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিশন সেটা সার্টিফাই করবে। এটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্বাচন কমিশনই স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার জন্য। এখন তারা যেটা করে, রিটার্নিং অফিসাররা যে ফলাফল দেয়, সেটাই তারা গেজেট আকারে প্রকাশ করে দেয়। তারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সেই দায়িত্বটা পালন করে না এবং তারা এখন অনেকটা পোস্ট অফিসের মতো ভূমিকা পালন করে—চিঠি আসলো, স্ট্যাম্প দিয়ে পাঠিয়ে দিলো।’

নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ মীমাংসার পর গেজেট প্রকাশ করা উচিত ছিল মন্তব্য করে সুজন সম্পাদক বলেন, ‘যখন প্রশ্ন ওঠে, তখন নির্বাচন কমিশন তদন্ত করতে পারে। তদন্ত করে ফলাফল বাতিলও করতে পারে, আবার নতুন নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারে।’

নূর হোসেন বনাম বাংলাদেশ মামলার উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়েছে কি না যদি এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত সাপেক্ষে সেই নির্বাচন বাতিল করতে এবং পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারবে। এবার এই প্রশ্নগুলো উঠেছে, কিন্তু নির্বাচন কমিশন তদন্ত করেনি। বরং তড়িঘড়ি করে গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ করেছে। গেজেট প্রকাশ করার একটি তাৎপর্য হলো, যখন গেজেট প্রকাশ হয়, তখন এটা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত হয়ে যায়। তারা হাত মুছে নিয়েছে, তাদের আর করার কিছু নেই।’

অভিযোগ মীমাংসার এখনো সুযোগ আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আরপিওর ৯১ (এফ) যদি হলফনামা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে গেজেট প্রকাশের পরেও নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন। তারা নির্বাচনও বাতিল করতে পারবেন।’

আরপিও অনুসারে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে সুজন সম্পাদক বলেন, ‘আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে মনোনয়নপত্রটা সম্পূর্ণ কি না এ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। যদি মনোনয়নপত্র সম্পূর্ণ না হয়, তাহলে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া উচিত কি না সেটাও প্রশ্ন করার সময় এসেছে।’