ঠাকুরগাঁওয়ে ‘ফুয়েল কার্ড’ নিতে দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তি

মো. কামরুল ইসলাম রুবাইয়াত
মো. কামরুল ইসলাম রুবাইয়াত

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন স্বাভাবিক রাখতে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ‘ফুয়েল কার্ড’ বাধ্যতামূলক করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী ৫ এপ্রিল থেকে কার্ড ছাড়া পেট্রল বা অকটেন কেনা যাবে না।

আজ সোমবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও পৌরসভায় কার্ড নিতে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার বাসিন্দাদের নিজ নিজ উপজেলা বা পৌরসভা থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র, মোটরসাইকেলের নিবন্ধনপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখিয়ে কার্ড নিতে বলা হয়েছে। অন্য জেলার বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি সুরেশ চন্দ্র রায় দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কাজের প্রয়োজনে প্রতিদিনই আমাকে বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয়। তেলের সংকটে আগে থেকেই ভোগান্তিতে ছিলাম, আর এখন কার্ড পেতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আজ সকাল ১০টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।’

পোলট্রি ব্যবসায়ী মো. বাবুল বলেন, ‘সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। আজ আর পারব না, আগামীকাল দেখি ফুয়েল কার্ড নিতে পারি কি না।’

এদিকে অন্য জেলার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়ানোর পর তিনি জানতে পারেন—তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কার্ড নিতে হবে। এতে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কার্ডে নির্ধারিত সীমার মধ্যে জ্বালানি তেল দেওয়া হবে। একজন গ্রাহক তিন দিনে ৫ লিটার, সাত দিনে ১০ লিটার ও ১২ দিনে সর্বোচ্চ ১৫ লিটার পর্যন্ত তেল নিতে পারবেন। প্রয়োজনে এই সীমা পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে বলে।

পৌরসভার কর নির্ধারক আব্দুর রশিদ ডেইলি স্টারকে বলেন, আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৭৬ জনকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। কাগজপত্র যাচাইয়ের কারণে সময় বেশি লাগছে।

কার্ড বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করছেন সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান।

তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, যাচাই-বাছাই করেই কার্ড দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে বুথের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনেও একই চিত্র দেখা যায়।

ভূমি অফিসের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা জগন্নাথপুর এলাকার দুর্লভ রায় বলেন, ‘তেলের অভাবে আমরা কাজ ব্যাহত হচ্ছে। যত রাতই হোক, কার্ড নিয়েই ফিরব।’

জেলা প্রশাসক (ডিসি) ইশরাত ফারজানা ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কার্ড বিতরণ শেষ হলে প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ করা সহজ হবে। ৫ এপ্রিলের পর কার্ড ছাড়া কোনো মোটরসাইকেলকে জ্বালানি দেওয়া হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবৈধ ও নিবন্ধনবিহীন যান চলাচল বন্ধ করা গেলে জ্বালানি সংকট অনেকটাই কমে আসবে।’