গাজীপুর সিটি করপোরেশন

প্রতিমন্ত্রীর বরখাস্ত করা ২ প্রকৌশলীকে যোগদানের আদেশ দিলেন প্রধান নির্বাহী

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর

গাজীপুর মহানগরে নির্মাণকাজের কয়েকদিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক ধসে পড়ার ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই প্রকৌশলীকে আবার কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রায় দেড় মাস আগে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

গত সোমবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সই করা এক অফিস আদেশে তাদের পুনর্বহাল করা হয়েছে।

পুনর্বহাল হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম হারুনুর রশীদ ও নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) এস এম শামছুর রহমান মাহমুদ।

কর্তব্যে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে গত ২৩ মার্চ তাদের বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

আজ বুধবার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের আবার কর্মস্থলে যোগদানের অফিস আদেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের একটা মেয়াদ ছিল। কিন্তু দেবে যাওয়ার অংশে কনট্রাক্টর কাজ করেছেন সময় পার হওয়ার পরে। সময় পার হওয়ার পর কাজ করায় প্রকৌশলী হারুনুর রশীদের দায় ছিল না। তবে প্রকল্প তার অধীনে থাকায় তাকে সতর্ক করা হয়েছে ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের তদারকিতে তার অবহেলা ছিল।

সোহেল হাসান বলেন, প্রকৌশলী শামছুর রহমান মাহমুদ এ প্রকল্পের কাজে শেষ হওয়ার পরে যোগদান করেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নগরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের তীরে নির্মাণাধীন সড়কটি উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ে। সড়কের একটি অংশ প্রায় ১৫ ফুট নিচে দেবে গেলে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ২৩ মার্চ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

পরিদর্শন শেষে প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ ও নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন।

একইসঙ্গে তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের কাছে বরখাস্ত-সংক্রান্ত চিঠি হস্তান্তর করেন।

এ ছাড়া ৭ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি নতুন তদন্ত কমিটি গঠন ও ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই সময় প্রতিমন্ত্রী জানান, তদন্তে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত প্রভাবের তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। পরে তিনি বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর করেন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

তবে ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর সোমবার গাজীপুর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসানের সই করা অফিস আদেশে ওই দুই কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

এতে বলা হয়, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন ০১-০৫ নম্বর জোনের অভ্যন্তরীণ রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ’ প্রকল্পে অবহেলা, অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি ও সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

একই আদেশে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়।