লালমনিরহাটে সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট

আমন মৌসুমে সার সংকটের প্রতিবাদে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা।

পর্যাপ্ত সার সরবরাহের দাবিতে আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে তারা উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেন।

ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা তিন শতাধিক কৃষক অংশ নেন। এ সময় তারা স্লোগান দেন ‘সার দে কৃষি বাঁচাও’, ‘বাঁচলে কৃষি বাঁচবে দেশ, মরলে কৃষক মরবে দেশ’।

ছবি: এস দিলীপ রায়/স্টার

এ সময় মহাসড়কের উভয়পাশে বুড়িমারী স্থলবন্দর রুটে চলা শতাধিক ট্রাক আটকা পড়ে। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের শান্ত করেন। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে  পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা হবে—ইউএনওর এমন আশ্বাসে কৃষকরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

‎মদাতি গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম জানান, ডিলারদের কাছে গিয়েও তিনি চাহিদা মতো সার পাননি।

‘কয়েক দোকান ঘুরে ইউরিয়া ও ডিএপি সার পাওয়া গেলেও টিএসপি সার সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। বাড়তি টাকা দিয়েও সার পাওয়া যাচ্ছে না। আমনের ভরা মৌসুমে টিএসপি সার খুবই প্রয়োজন। এমনিতেই
ফসল উৎপাদন করে আমরা লাভ করতে পারছি না। তার ওপর ঠিক মতো সার সরবরাহ না পেলে আমাদের কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে হবে,’ বলেন তিনি।

তুষভাণ্ডার গ্রামের কৃষক নবিয়ার রহমান জানান, আমন মৌসুমে সব ধরনের সারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে টিএসপি সারের সংকট তীব্র হয়েছে। সময় মতো সার দিতে না পারলে আশানুরূপ ধান পাওয়া যাবে না।

‘আমন হলো আমাদের জন্য লাভজনক ফসল। কিন্তু চাহিদা মতো সার সরবরাহ না পেলে এবার লোকসানে গুনতে হবে,’ বলেন তিনি।

‘এমনিতেই এ বছর আলু চাষে লোকসান, ভুট্টা ও ধানে কোন রকমে পুঁজি তুলেছি। সারের অভাবে আমন চাষ ব্যাহত হলে আমাদের শুধুই ক্ষতির মুখে পড়তে হবে,’ বলেন দলগ্রাম এলাকার কৃষক নাজির হোসেন।

কালীগঞ্জের সারের ডিলার সোহরাব হোসেন জানান, তারা যতটুকু সার সরবরাহ পাচ্ছেন, ততটুকু সরকারি নির্ধারিত দামে বিক্রি করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা কখনই সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করি না। বেশি দরে বিক্রিও করি না।’

সোহরাব জানান, টিএসপি সারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, কিন্তু সরকারি বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় ৬০-৭০ শতাংশ কম।

সাইফুল ইসলাম জানান, কৃষকদের সারের ঘাটতি ও ক্ষোভের বিষয়টি প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। কৃষকরা যাতে চাহিদা মতো সার পান, সে জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

‘কোনো ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কি না কিংবা সার বিক্রিতে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ তিনি বলেন।