যা আছে রাষ্ট্রপতির শপথে, গোপনীয়তার শপথ নেই যে কারণে

বাহরাম খান
বাহরাম খান

দেশের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারীরা নিজ পদের দায়িত্ব গ্রহণ করার আগে সংবিধান অনুযায়ী শপথ নেন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সবার উপরে থাকবেন এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমানে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন বলে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

এ আয়োজনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শপথবাক্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। তবে সেখানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের গোপনীয়তার শপথ থাকলেও রাষ্ট্রপতির জন্য গোপনীয়তার শপথ নেই।

রাষ্ট্রপতি শপথে বলবেন, আমি…………………., সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ (বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা) করিতেছি যে, আমি আইন-অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি-পদের কর্তব্য বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব; আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব; আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান করিব; এবং আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন-অনুযায়ী যথাবিহিত আচরণ করিব।

এই শব্দগুলো পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতির শপথ সম্পন্ন হয়ে যায়।

কিন্তু গোপনীয়তার শপথ কেন নেই? জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান একাধিক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পদটি একটি আলংকারিক দায়িত্ব। এ কারণে এখানে গোপনীয়তার শপথ নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এ কারণেই রাষ্ট্রপতির গোপনীয়তার শপথ নেওয়ার বিধান রাখা হয়নি।

তারা বলেন, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের কোনো দায়যুক্ত কার্যনির্বাহের দায়িত্বে থাকেন না। রাষ্ট্র পরিচালনায় সাংবিধানিকভাবে যিনি বা যারা কোনো দায়িত্ব পালন বা পালন না করার কারণে দায়ী হতে পারেন, তাদের ক্ষেত্রে গোপনীয়তার শপথ নেওয়ার বিধান রাখা হয়।

রাষ্ট্রপতির শপথের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন

আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।  

বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১১টার পর বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ অনুষ্ঠানের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের সর্বশেষ প্রস্তুতি ঠিকঠাক আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে মহড়ার রীতি রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের মঞ্চে ৩টি চেয়ার থাকে। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদ, নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যরিস্টার কায়সার কামাল মঞ্চে আসন গ্রহণ করবেন।

বঙ্গভবন সূত্র জানায়, শপথ অনুষ্ঠান শুরুর দুয়েক মিনিট আগে বঙ্গভনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি প্রবেশ করার সময় উচ্চস্বরে সবাইকে রাষ্ট্রপতির আগমন বার্তা দেওয়া হয়। এর সঙ্গে সঙ্গে অর্কেস্ট্রার ঝংকারে বেজে উঠবে জাতীয় সংগীতের সুর। সেসময় প্রধানমন্ত্রীসহ অতিথিরা জাতীয় সংগীত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে সম্মান জানাবেন।

এরপর অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি রাষ্ট্রপতির কাছে অনুমতি চাইবেন, অনুমতি পাওয়ার পর পবিত্র কোরআন থেকে তিলওয়াত হবে।

এরপর মন্ত্রিপরিষদ সচিব বর্তমান রাষ্ট্রপতি, নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এবং বর্তমান স্পিকারকে মঞ্চে আসন গ্রহণ করার অনুরোধ জানাবেন। এরপর দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পিকারকে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর আহ্বান জানাবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

শপথ শেষ হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি হাতে থাকা ফোল্ডারের দুই পাশে দুটি কাগজে সই করবেন। এর মধ্যে একটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংরক্ষণ করবে অন্যটি রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সংগ্রহের জন্য দেওয়া হবে।

এর মাধ্যমেই রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান শেষ হবে। এরপর সবাইকে আপ্যায়ন পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।