দুয়েকজন উপদেষ্টা ষড়যন্ত্র করে একটি দলকে ক্ষমতায় নিতে চায়: গোলাম পরওয়ার
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, 'নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অস্থিরতা বাড়ছে। দুয়েকজন উপদেষ্টা ও প্রশাসন গোপনে ষড়যন্ত্র করে একটি দলকে ক্ষমতায় নেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা কেমন যেন একটা চাপের মধ্যে আছে।'
এমন পরিস্থিতিতে 'চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের গোপন পথ ছেড়ে' আগামী নির্বাচন 'সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার স্বার্থে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে' মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আজ শনিবার খুলনার পাইকগাছায় এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল। জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, 'চব্বিশের গণআন্দোলনে ছাত্র-জনতার যুদ্ধ ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। আর আমাদের দ্বিতীয় যুদ্ধ হলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে। সেই দ্বিতীয় যুদ্ধে ছাত্র-জনতাকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ইসলামের পক্ষের শক্তিকে (ক্ষমতায়) পাঠাতে হবে।'
তিনি বলেন, 'জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে প্রথম কাজ হবে বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে এমন ব্যবস্থা চালু করা, যেন সবার শিক্ষা নিশ্চিত হয়। দ্বিতীয় কাজ হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠন। সুবিচার প্রতিষ্ঠায় কোরআনের আইনকে সংসদে পাঠাতে হবে এবং কোরআনের ভিত্তিতে সমাজ গঠন করতে হবে।'
এ জন্য গোলাম পরওয়ার সবাইকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
'ঐক্য থাকলে বাকিরা বাতিলের খাতায় চলে যাবে'
গোলাম পরওয়ার বলেন, 'এর আগে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লব হয়েছে। এবার সুশাসনের জন্য বিপ্লব করতে হবে। ইসলামী দলগুলোর মধ্যে এখন ঐক্য তৈরি হয়েছে। এই ঐক্য থাকলে বাকিরা বাতিলের খাতায় চলে যাবে।'
দেশবাসী এবার 'নতুন কিছু দেখতে চায়' মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, 'দেশের সব ইসলামী দলের সঙ্গে একটা বোঝাপড়া হয়েছে। সেই জোটের ভিত্তিতেই আগামী ফেব্রুয়ারিতে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের ভোটের মূল্যায়ন করতে হবে।'
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের পাইকগাছা উপজেলা আমির মাওলানা সাইদুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'অনেকে পিআর পদ্ধতির সমালোচনা করছেন। কিন্তু যারা পিআর বোঝেন না, তাদের রাজনীতি করার কিংবা ক্ষমতায় যাওয়ার দরকার নেই।'
পরে তিনি কয়রা-পাইকাগাছার উন্নয়নে ২০ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।