৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তি বাতিল, আদানির চুক্তি পুনর্বিবেচনায়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

By স্টার অনলাইন রিপোর্ট

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে এ পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

তিনি আরও জানান, আদানি পাওয়ারের সঙ্গে জ্বালানি চুক্তিটি সরকার পুনর্বিবেচনা করছে।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

গত দুদিন ধরে শোনা যাচ্ছে ভারতের সঙ্গে বেশ কিছু চুক্তি বাতিল করা হয়েছে, আসলে কী ঘটেছে এবং চুক্তি বাতিল হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, 'যে তালিকাটা এসেছে, এটা কোনো একজন দিয়েছেন। সেটা সম্ভবত একজন উপদেষ্টা রিটুইট করেছেন তার একটা কমেন্টসহ। কমেন্টটা নিয়ে আমি কোনো কমেন্ট করতে চাই না। হয়তো এটা উনি না করলেও পারতেন।'

তিনি বলেন, 'যে তালিকাটা এসেছে ওখানে, এটা সঠিক নয়। এর অধিকাংশ এক্সিস্ট করে না আদৌ। একটি মাত্র চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এটা অনেক পুরোনো, অনেক দিন আগেই করা হয়েছে। বাকিগুলোর কয়েকটি আছে যে, বিভিন্ন পর্যায়ে আছে এবং ঠিক ওই নামে নেই—অন্য রকম ডেসক্রিপশনে কিছু আছে।'

তিনি জানান, 'ত্রিপুরা-চট্টগ্রাম রেল সংযোগ' ও 'অভয়পুর-আখাউড়া রেলপথ সম্প্রসারণ' নামে কোনো প্রকল্প নেই। আশুগঞ্জ-আগরতলা করিডর নামে কিছু নেই, আশুগঞ্জ-সরাইল-ধরখার প্রজেক্ট নামে একটি প্রকল্প চলমান। এটার একটি প্যাকেজ বাতিল হয়েছে, বাকিটুকু চালু আছে। ফেনী নদীর পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প—এ রকম কোনো প্রকল্প নেই, একটি সমঝোতা (এমওইউ) আছে বেশ কিছু দিন আগের এবং সেটা এখনো বাতিল হয়নি। কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন প্রকল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেটা উল্লেখ করা হয়েছে, এ নামে কোনো প্রকল্প নেই। এমওইউ অন উইড্রয়াল ওয়াটার বাই বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া ফ্রম কমন বর্ডার রিভার কুশিয়ারা আছে।

এটা একটা সমঝোতা স্মারক, ২০২২ সালে স্বাক্ষর হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারকটা এখনো স্থগিত করা হয়নি। বন্দরের ব্যবহার সংক্রান্ত সড়ক ও নৌ পথ উন্নয়ন চুক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেটা বলা হয়েছে, এ রকম কোনো চুক্তি নেই। আছে এগ্রিমেন্ট অন দ্য ইউজ অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অব গুডস টুয়ার্ডস ফ্রম ইন্ডিয়া; বিটুইন বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া—এটা বাতিল হয়নি। ফারাক্কা বাঁধ সংক্রান্ত প্রকল্পে বাংলাদেশের আর্থিক সহযোগিতা প্রস্তাব, এ ধরনের কোনো প্রকল্প নেই। সিলেট-শিলচর সংযোগ প্রকল্প নামে কোনো প্রকল্প নেই, জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তৌহিদ বলেন, 'পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন সম্প্রসারণ চুক্তি, এ রকম কোনো চুক্তি হয়ইনি! আপনারা জানেন যে, একটা পাইপলাইন নুমালিগড় থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত আছে। এটা সম্প্রসারণের জন্য প্রাথমিক আলোচনা হয়েছিল এক সময় কিন্তু বলা হচ্ছে যে সম্প্রসারণের চুক্তি হয়েছে, এ রকম কোনো চুক্তি নেই। ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প মীরসরাই ও মোংলা, ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিট যেটা আছে, এই বিষয়টি বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে।'

তিনি আরও বলেন, 'আদানি পাওয়ারের সম্বন্ধে যেটা বলা হয়েছে, এটা মোটামুটি ঠিক আছে। এটা পুনর্বিবেচনার জন্য বা এটাকে রিফ্রেমিং করার জন্য আলোচনা চলছে। এটা চলমান, কোনো চুক্তি হয়ে গেছে বা বাতিল হয়েছে এ রকম কোনো কিছু নেই। পুনর্বিবেচনা হচ্ছে আসলে।'

'গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির (ট্রিটি) মেয়াদ আগামী বছর শেষ হবে। এটার নবায়নের জন্য আলোচনা হবে, যোগাযোগ চলছে। তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির খসড়া, এ রকম কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি, সাক্ষর হয়েছে বলাও হয়নি। এটা তো আপনারা জানেন, দীর্ঘদিন যাবত আমরা এটার ওপর কাজ করছি, খুব যে অগ্রগতি হয়েছে তা না। একমাত্র লাস্টে যেটা ছিল, জিআরএসের সঙ্গে আমাদের যে টাগ বোট চুক্তি ছিল, সেটা আমরা বাতিল করেছি। বিবেচনা করে দেখা গেছে, এটা বাংলাদেশের জন্য খুব লাভজনক না,' যোগ করেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের সঙ্গে মোট কয়টি চুক্তি বাতিল করা হয়েছে—জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, 'একটাই চুক্তি আসলে বাতিল করা হয়েছে। বেশ কিছু পুনর্বিবেচনা-পর্যালোচনা চলছে।'

কোনগুলো পুনর্বিবেচনা-পর্যালোচনা পর্যায়ে আছে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, 'যখন কোনো নেগোসিয়েশন হয়, তখন আসলে সার্বক্ষণিকভাবে সেগুলো তথ্য নিয়ে খুব বেশি কথা না বলাই ভালো।'

কোনো চুক্তি সই অথবা বাতিল হলে জানানো হবে বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পে লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় যে প্রকল্পগুলো আছে, সেগুলো আমরা বাতিল করার চেষ্টা করছি।'

এর আগে স্থানীয় সরকার ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভারতের সঙ্গে ১০টি চুক্তির একটি তালিকা প্রকাশ করেন। যার মধ্যে কিছু চুক্তি বাতিল হয়েছে এবং কিছু পর্যালোচনাধীন বলে তিনি দাবি করেন।