বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠছে: মির্জা ফখরুল

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গ্রাম পর্যায়ের আন্দোলনে বিএনপি দেশবাসীর কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দমন-পীড়নে বিএনপিকে দমানো যাবে না। এত নির্যাতন, এত নিপীড়ন, এত হত্যা, এত গুম-খুনের পরও বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না। বিএনপি সেই ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসাবশেষ থেকে জেগে উঠছে- এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় তাদের রাগের কারণ, ভয়ের কারণ।

আজ মঙ্গলবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, 'জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে গতকাল থেকে আমাদের নতুন করে গ্রাম পর্যায়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসছে। প্রায় প্রতিটি থানা-উপজেলায় কিন্তু বড় বড় মিছিল হয়েছে। এর মধ্যেও তারা (সরকার) কেউ থেমে নেই। গতকাল লক্ষ্মীপুরে শহিদ উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে আক্রমণ করেছে, বরিশালের গৌরনদীতে বিএনপি-যুব দল-ছাত্র দলের নেতাদেরকে ঘর থেকে ধরে এনে মারধর করেছে, অত্যাচার-নির্যাতন করেছে।'

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তাদের পরিবারের সবাইকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, 'যারা ভুক্তভোগী, ভিকটিম হয়েছেন তাদের জন্য রাষ্ট্রের সিস্টেমের মধ্য দিয়ে ব্যবস্থা করা হবে। আমরা এতোটুকু বলতে পারি, আমরা আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্য দিয়ে চেষ্টা করেছি আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। দলের পক্ষ থেকে বলতে চাই- আমরা নুরে আলম ও আব্দুর রহিমের পরিবারের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি তারা যেন বাকি জীবনটা চালাতে পারে তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা করব।'

এদের সহায়তার জন্য বিএনপি জাতীয়তাবাদী হেল্প সেল গঠন করেছে। এই সেলের উদ্যোগে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনে যুক্ত ১৪ জন নেতা-কর্মীর পরিবারকে এককালীন ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

'টর্চার সেল'

মির্জা ফখরুল বলেন, 'আপনারা দেখেছেন, এই সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তুলে নিয়ে যায়। নেত্র নিউজে খবর বেরিয়েছে তাদের টর্চার সেল আছে। তার নাম দিয়েছে আয়না ঘর। সেই আয়না ঘরে নিয়ে যায়। যাদেরকে মেরে ফেলতে হয় তাদেরকে মেরে ফেলে, যাদেরকে রেখে দিতে হয় তাদের রাখে, টর্চার করে, বছরের পর বছর তাদেরকে রাখে। যে কয়েকজন সৌভাগ্যক্রমে বেরিয়ে যেতে পেরেছিল, তারা বিদেশে চলে গেছেন, গিয়ে সেখান থেকে বলছেন যে, এই ধরনের একটা সেলে আমাদেরকে আটকে রাখা হয়েছিল।'

'আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব তিনি নিজে বলেছেন, আমি নিজে একজন ভিকটিম। তাকে যখন ১/১১ সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সময়ে তাকে রিমান্ডের নাম করে নিয়ে আসা হয়েছিল। এমন টর্চার করা হয়েছিল যে, তার কোমর ভেঙে গিয়েছিল।

'উন্নয়নের বড়াই'

মির্জা ফখরুল বলেন, 'এরা বড়াই করছে-সিঙ্গাপুর বানিয়ে দিয়েছে, মালয়েশিয়া বানিয়ে দিয়েছে। এদিকে চা-শ্রমিকরা ১২০ টাকা প্রতিদিন পায়। তারা আন্দোলন করছে, সংগ্রাম করছে।'

'ওই দিকে শতকরা ৪২ জন মানুষের জীবন দারিদ্য সীমার নিচে চলে গেছে, দুই বেলা খেতে পায় না। এখনো এই ৫০ বছর স্বাধীনতার পরেও আমাদের দেশে শ্রমিকদের এই অবস্থা। তারা বলেন, আমরা নাকি তাদের উন্নয়ন দেখতে পাই না। আপনারা আওয়ামী লীগের যতজন আছেন আপনারা জনগনের পকেট করে নিজেদের পকেট ভারী করেছেন, উন্নত হয়েছেন, ধনী হয়েছেন।'