চাপ সরিয়ে তামিমের ম্যাচ জেতানো ইনিংস

By ক্রীড়া প্রতিবেদক

লক্ষ্যটা ছিল বেশ নাগালের মধ্যেই । ছিল রাতের ম্যাচে শিশিরের কারণে বাড়তি একটা সুবিধাও। এমন মঞ্চে সুযোগ হাতছাড়া করেননি তামিম ইকবাল। পরিস্থিতির দাবি মিটিয়েছেন, পেয়েছেন ফিফটি, দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জিতিয়েছেন দল।

প্রথম ম্যাচে জেমকন খুলনার কাছে শেষ ওভারে অবিশ্বাস্য হারের ধাক্কার পর মনস্তাত্ত্বিকভাবে কিছুটা ভেঙ্গে পড়ার কথা ফরচুন বরিশালের। তা সামলে দুই ম্যাচ জিতে আসা মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীকে তারা হারাল ৫ উইকেটে।

রাজশাহীর করা ১৩২ রান ৬ বলে আগে পেরিয়ে যায় বরিশাল। অধিনায়ক তামিম  ৬১ বলে ১০ চার, ২ ছক্কায় করেন অপরাজিত ৭৭ রান।

রান তাড়ায় এবারও অবশ্য শুরুটা ভাল হয়নি বরিশালের। তামিমের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে মেহেদী হাসান মিরাজ টিকেছেন কেবল ৫ বল। মাত্র ১ রান করে আপার কাটে ক্যাচ দিয়েছেন থার্ড ম্যানে। এরপর খানিকটা সময় একটু চাপ ছিল। তবে পারভেজ হোসেন ইমনের সহজ ক্যাচ ফেলে দেওয়ার পর সেই চাপ হয় আলগা। অফ স্পিনার শেখ মেহেদী হাসানকে টার্গেট করে এগিয়ে এসে রান বাড়ান তামিম। পারভেজও বাড়াতে থাকেন দ্রুত রান। তবে মেহদীর বলেই বোল্ড হয়ে ইতি তার।

পরে তৌহিদ হৃদয়কে নিয়ে এগুতে থাকেন তামিম। বরিশাল অধিনায়ক ৪৫ বলে তুলে নেন ফিফটি। ৪৬ রানের জুটির পর ২১ রান করে ফেরেন বেশ মন্থর খেলা হৃদয়। আফিফ হোসেন এসে প্রথম বলেই দেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ। মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ জোড়া আঘাত দিলেও তাদের কম পূঁজির কারণে আক্ষেপই বাড়ছে তখন।

শেষ দিকে ইরফান শুক্কুরও রান আউট হয়ে যান। তবে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে দলকে তীরে ভিড়িয়েছেন তামিম। শেষ দিকে কিছুটা উত্তেজনা ছড়ালে দুই ছক্কা মেরে তা আড়াল করে দেন তিনি। পুরো ইনিংসে বেশ সলিড ব্যাট করেছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। দলের ব্যাটিং গভীরতার হাল জেনে শেষ পর্যন্ত টিকে ম্যাচ করেছেন তিনি।  

এর আগে রাজশাহীর ইনিংসের গল্প মন্থর শুরু, ধসে যাওয়া এবং পরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় বাধা। মন্থর শুরুর পর রান বাড়ানোর চাপে দ্রুত উইকেট হারাচ্ছিল তারা। এক পর্যায়ে ৬৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে অল্প রানে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল তারা। অমন বিপর্যয় থেকে দলকে উদ্ধারে আরও একবার ত্রাতা হন শেখ মেহেদী। তবে কামরুল ইসলাম রাব্বি, তাসকিন আহমেদদের তোপে শেষ পর্যন্ত তাদের পূঁজি হয়নি চ্যালেঞ্জিং। কম পূঁজি নিয়েও বোলাররা লড়াই করেছেন, মূলত বাড়িয়েছেন আফসোস।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী: ২০ ওভারে ১৩২/৯  (শান্ত ২৪,  আনিসুল  ২৪, রনি ৬, আশরাফুল ৬ , ফজলে ৩২, নুরুল ০, শেখ মেহেদী ৩৪  , ফরহাদ ১,  ইবাদত ০, মুগ্ধ ১* ;   তাসকিন ১/১৯ ,   সুমন ৩/৩৩, রাহি ১/২৯, মিরাজ ২/১৮ , কামরুল ৪/২১, আফিফ ১/১১ )

ফরচুন বরিশাল:  ১৯ ওভারে ১৩৬/৫  (তামিম ৭৭* , মিরাজ ১,  পারভেজ ২৩,  তৌহিদ ১৭,  আফিফ ০, ইরফান ৩, অঙ্কন ৪*  ; রেজাউর ০/১৭, ইবাদত, মেহেদী ১/৩২, ফরহাদ ০/১৭, মুকিদুল ২/২৭, শান্ত  ০/২০)

ফল : ফরচুন বরিশাল ৫ উইকেটে জয়ী। 

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তামিম ইকবাল।