নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহসড়ক অবরোধ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলিবিদ্ধ ১

By নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহসড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন ও বিক্ষোভ মিছিলের মধ্যে দিয়ে নারায়ণগঞ্জে আজ রোববার চলছে হেফাজতে ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল।

এতে করে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেটের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সকাল পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড সানারপার এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) ও পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক দোকানের কর্মচারী।

আমাদের সংবাদদাতার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, আজ ভোর ৬টা থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা মহাসড়কের শিমরাইল, মৌচাক ও সানারপাড় এলাকায় গাছের গুড়ি-বালুর বস্তা রেখে, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ও লাঠিসোটা নিয়ে অবরোধ করে রাখে। সেসময় কয়েকটি ট্রাক চলাচল করতে চাইলে হরতাল সমর্থকরা ঢিল ছুঁড়ে ট্রাকের গ্লাস ভেঙে দেয়।

Narayanganj_highway_photo (1).jpg
ছবি: স্টার

র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে কয়েকদফা মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। মহাসড়কের পাশেই অবস্থান করছেন পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ডেইলি স্টারকে বলেছেন, ‘হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনগঞ্জ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে রাখায় ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। জেলা পুলিশ তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যানবাহন ডেমরা স্টাফ কোয়াটার দিয়ে চলাচল করছে।’

সরেজমিনে শহরে দেখা যায়, ভোর ৬টা থেকেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ভোর থেকে যানবাহন কিছুটা কম চলাচল করলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের চলাচল বাড়ছে। এছাড়া, নাশকতা ঠেকাতে শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ ডিআইটি রেলওয়ে জামে মসজিদের প্রধান ফটকের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান দেখা গেছে। সকাল পৌনে ১০টা পর্যন্ত শহরের ভেতরে কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার সংবাদ পাওয়া যায়নি।

সকাল সাড়ে ৭টায় ডিআইটি মসজিদের সামনে ১৫ থেকে ২০জন নেতাকর্মী মিছিল বের করলেও পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। পরে মসজিদের ভেতর থেকে হরতাল সমর্থনে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের স্লোগান শোনা যায়।

Narayanganj_highway_photo (3).jpg
সকাল ৬টা থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহসড়ক অবরোধ শুরু করে হরতাল সমর্থকরা। ছবি: স্টার

হেফাজতে ইসলাম নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি ফেরদাউসুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের হরতাল কর্মসূচি চলছে। সানারপাড় এলাকায় মহাসড়কে আমাদের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করছে। তারা যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে তা বলা হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা শহরে হরতাল সমর্থনে মিছিল করবো।’

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সকাল থেকেই যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেনি। সাইনবোর্ড এলাকায় মহাসড়কে ভোরে আগুন দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। হেফাজত নেতাকর্মীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতের আমির ও কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আবদুল আউয়াল সাহেবের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। তারা বলেছেন কোন ধরনের পিকেটিং করবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘হরতালে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয় সেজন্য জেলায় পুলিশের ৮৮৫ সদস্যসহ পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাব ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় টহল দিচ্ছে।’

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নেতাকর্মীদের হত্যা ও তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর পুরান পল্টনে সাংবাদ সম্মেলন করে সারা দেশে আজ রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেয় হেফাজতে ইসলাম কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আবদুর রব ইউসুফী।