ঋষি কাপুরের চলে যাওয়ার একবছর

By জাহিদ আকবর

বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা ঋষি কাপুরের প্রথম প্রয়াণ দিবস আজ। এদিন ইনস্টাগ্রামে তার স্ত্রী নিতু কাপুর  সাদাকালো যুগল ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘সারা বছরই দুঃখ ও বেদনায়  কেটেছে, তার আরও কারণ আমরা তোমাকে হারিয়েছি। এমন একটাও দিন নেই যেদিন আমরা তোমার সঙ্গে পার করা সময়ের কথা শেয়ার করিনি। কখনো জীবনদর্শন, কখনো  জোকস, কখনো নানা গল্প। জীবন চলতে থাকবে, তবে তোমার সঙ্গে যেমন ছিল তেমনটা আর কখনো হবে না।’

kapoor2.jpg
ইনস্টাগ্রামে নিতু কাপুরের পোস্ট।

গত বছরের ৩০ এপ্রিল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ঋষি কাপুর। এর আগে, প্রায় আড়াই বছর ধরে তার চিকিৎসা চলছিল। ৬৭ বছর বেঁচেছিলেন বরেণ্য এই অভিনেতা।

ঋষি কাপুর ১৯৫২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর কাপুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বিখ্যাত রাজ কাপুর ও কৃষ্ণা রাজ কাপুর দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান এবং অভিনেতা পৃথীরাজ কাপুরের নাতি তিনি।

১৯৭০ সালে বাবা রাজ কাপুর পরিচালিত আলোচিত সিনেমা ‘মেরা নাম জোকার’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে বলিউডের রুপালী আলোয় আসা। এতে অভিনয় করে শিশুশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্রে পুরস্কার জিতে নেন।

নায়ক হিসেবে প্রথম অভিনয় করার সুযোগ পান রাজ কাপুর পরিচালিত ‘ববি’ সিনেমায়। ১৯৭৩ সালে এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার লাভ করেন। ‘ববি’ সিনেমার প্রিমিয়ার শোতে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায়।

ঋষি কাপুর ১৯৭৩ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত অনেক সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য কিছু সিনেমা- ‘ববি’, ‘প্রেম রোগ’, ‘দিওয়ানা’, কভি কভি, ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’, ‘বোল রাধা বোল, ‘হেনা’, ‘লাইলি মজনু’, ‘দুনিয়া মে জব ম্যায়’, ‘নাগীনা’, ‘নসীব, ‘লাভ আজকাল’, ‘ফানা’, ‘ইয়ারানা’, ‘হানিমুন’, ‘পাতিয়ালা হাউস‘ ও কাপুর অ্যান্ড সন্স’।

১৯৭৪ সালে নিতু সিংয়ের সঙ্গে ‘জেহরিলা ইনসান’ সিনেমার সেটে প্রথম দেখা হয়েছিল ঋষি কাপুরের। ১৯৮০ সালের ২২ জানুয়ারি বিয়ে করেন তারা। মোট ১৫টি সিনেমাতে নায়িকা হিসেবে ছিলেন নিতু সিং। বিয়ের পর দুজনে একসঙ্গে কাজ করেছেন ‘দো দুনি চার’, ‘জব তক হ্যায় জান’, ‘লাভ আজকাল’ ও  ‘বেশারাম’ সিনেমায়।

এই তারকা দম্পতির মেয়ে ঋদ্ধিমা কাপুর একজন খ্যাতিমান ফ্যাশন ডিজাইনার। ছেলে রণবীর কাপুর বলিউড সুপারস্টার।

২০১৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর মুক্তিপায় ঋষি কাপুর অভিনীত শেষ সিনেমা ‘দ্য বডি’। ২০০৮ সালে ফিল্মফেয়ারের মঞ্চে  ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট’ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় তাকে।