লেবাননে পাসপোর্ট নম্বরবিহীন বাংলাদেশিদের নিবন্ধন শুরু

By সুব্রত সাহা বাবু

লেবাননে অবৈধ হয়ে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের বড় একটা অংশের কাছে পাসপোর্ট কিংবা এর ফটোকপি নেই। কারো পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে, কারো লেবানিজ প্রতিষ্ঠানের মালিকের হেফাজতে রয়েছে গেছে। অনেকের পাসপোর্ট নম্বর পর্যন্ত জানা নেই।

পাসপোর্ট না থাকার কারণে তাদের পক্ষে সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে দেশে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না। তাই তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ দূতাবাসের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধনের আবেদন জানিয়ে আসছেন।

অবশেষে এমন সব পাসপোর্ট নম্বরবিহীন প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিবন্ধন শুরু করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

রোববার বৈরুতের আল আনসার স্টেডিয়ামে দূতাবাসের উদ্যোগে তাদের নাম নিবন্ধন শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে প্রায় তিন শতাধিক পাসপোর্ট নম্বরবিহীন বাংলাদেশি নিবন্ধন করেছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আল মুস্তাহিদুর রহমান ও শ্রম সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

ছবি, জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপির সঙ্গে লেবানন সরকার নির্ধারিত জরিমানা বাবদ ৬ লাখ ৫০ হাজার লেবানিজ পাউন্ড জমা দিয়ে নিবন্ধন করতে হচ্ছে।

শ্রম সচিব জানিয়েছেন, লেবাননের জেনারেল সিকিউরিটি এবং বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের ছাড়পত্র পাওয়ার পর আবেদনকারী বাংলাদেশি কর্মীদের দেশে পাঠানো হবে। তাদের শুধু উড়োজাহাজের টিকিটের টাকা পরিশোধ করতে হবে।

আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত পাসপোর্ট বিহীন বাংলাদেশিদের নাম নিবন্ধনের এই বিশেষ কর্মসূচি চলবে।

এ দিকে দূতাবাস জানিয়েছে সোমবার থেকে পাসপোর্ট বিহীনদের বাংলাদেশিদের নিবন্ধন কার্যক্রম আল-আনসার স্টেডিয়ামের পরিবর্তে দূতাবাসে অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে যাদের পাসপোর্ট বা ফটোকপি কিংবা পাসপোর্ট নাম্বার আছে তাদের দেশে ফেরার নিবন্ধনও যথারীতি চলবে।

লেবানন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পাসপোর্ট থাকা বাংলাদেশিদের কোনো জরিমানা দিতে হবে না। তাদের নিবন্ধনের সময় উড়োজাহাজের টিকিটের ৪০০ ডলার শুধু দূতাবাসে জমা দিতে হবে।

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে অর্থনৈতিক মন্দা, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল্যের সঙ্গে করোনার লকডাউনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে আর্থিক সংকটে রয়েছেন। ফলে অবৈধ হয়ে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশি ছাড়াও অনেকে বৈধ আকামার কর্মীও দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।

সুব্রত সাহা বাবু: লেবাননপ্রবাসী সাংবাদিক