ভারতের ‘দ্বিতীয় প্রিয় দল’ হয়েই সেমির স্বপ্ন নিউজিল্যান্ডের

স্পোর্টস ডেস্ক

ভারতে ক্রিকেট মানেই নীল সমুদ্রের মতো দর্শক সমর্থন। তবে সেই সমর্থনের ভেতরেও নিজেদের জন্য জায়গা দেখছেন নিউজিল্যান্ড অলরাউন্ডার ড্যারিল মিচেল। তার বিশ্বাস, ভারতীয় সমর্থকদের “দ্বিতীয় প্রিয় দল” হিসেবে পরিচিতি কাজে লাগিয়ে কঠিন সুপার এইট পর্ব পেরিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল।

২০২১ সালের ফাইনালিস্ট কিউইরা গত আসরে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেয়। এবারও শুরুটা সহজ হয়নি, পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ম্যাচই এখন কার্যত ‘জিততেই হবে’ সমীকরণে পরিণত হয়েছে।

রয়টার্সকে মিচেল বলেন, “আমরা নিজেদের ভারতের দ্বিতীয় প্রিয় দল হিসেবে ভাবতে ভালোবাসি। এখানে যে সমর্থন পাই, তা সত্যিই দারুণ। আশা করছি, ভারতের বিপক্ষে খেললে যে নীল জার্সির সমুদ্র দেখি, তার কিছুটা হলেও কালো জার্সির সমর্থনে বদলে যাবে।”

আগামী বুধবার কলম্বোর স্পিন সহায়ক উইকেটে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড, দুই দিন পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এশিয়ার কন্ডিশনে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতাই দলের বড় শক্তি বলে মনে করেন মিচেল।

তিনি বলেন, “আমরা সবাই নিউজিল্যান্ডে দ্রুত ও বাউন্সি উইকেটে বড় হয়েছি। তবে বছরের পর বছর এই অঞ্চলে খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের পরিকল্পনা সাজাতে সাহায্য করেছে।”

প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন থাকলেও অতিরিক্ত চাপ নিতে চান না এই ৩৪ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। তার মতে, বর্তমানেই মনোযোগ রাখাই সাফল্যের চাবিকাঠি।

“ট্রফি জিততে পারলে দারুণ লাগবে, কিন্তু তার আগে অনেক ক্রিকেট বাকি। তাই আমরা সামনে কী আছে তা নিয়েই ভাবছি, অতিরিক্ত দূরে তাকাচ্ছি না,” বলেন তিনি।

২০১৯ সালে অভিষেকের পর থেকে ১০০ ম্যাচে ১,৮৫৬ রান করা মিচেল এখন মূলত ‘ফিনিশার’-এর ভূমিকায় খেলছেন। ওপেনার টিম সাইফার্ট ও ফিন অ্যালেন-এর বিধ্বংসী ব্যাটিং তাকে এই ভূমিকায় নামতে সহায়তা করেছে।

মিচেলের ভাষায়, “উপরে ‘ব্যাশ ব্রাদার্স’ দারুণ কাজ করছে। পাওয়ারপ্লে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মাঝের ওভারগুলোতে স্পিন সামলানো এবং শেষের ওভারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমি সাধারণত ১০ ওভারের পর থেকে ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে ইনিংস শেষ করার দায়িত্ব পালন করি।”