হার্দিকের অধিনায়কত্ব নিয়ে ‘কেউ আঙুল তুলবে না’, বলছেন পোলার্ড

স্পোর্টস ডেস্ক

এবার আইপিএলের পুরো মৌসুমটাই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য কেটেছে একরাশ হতাশায়। রাজস্থান রয়্যালসের কাছে শেষ ম্যাচ হেরে নবম স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করার পর দলটির ব্যাটিং কোচ কাইরন পোলার্ডের কন্ঠে ঝরেছে আক্ষেপ। তবে কাউকে একা দায় দিতে চান না তিনি। 

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে পোলার্ড বলেন, ‘যদি এই জিনিসটা হতো, যদি আমরা ওটা করতে পারতাম, যদি তাকে খেলাতাম, যদি ভালো ব্যাটিং হতো—পুরো মৌসুমটাই এমন আফসোসে কেটেছে। সামগ্রিকভাবে, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স হিসেবে এটি আমাদের সবার জন্যই ভীষণ হতাশাজনক। সমর্থক থেকে শুরু করে সবারই যে একই রকম খারাপ লেগেছে, তা আড়াল করার কোনো সুযোগ নেই। পুরো টুর্নামেন্টে আমরা ভালো খেলতে পারিনি। টানা ম্যাচ জেতা কিংবা মোমেন্টাম কাজে লাগানোর কাজটা আমরা করতেই পারিনি।’

তবে এখনই সব ঘাটতি নিয়ে বিস্তারিত কাঁটাছেঁড়া বা দোষারোপ করার সময় নয় বলে মনে করেন এই ক্যারিবিয়ান তারকা।

পোলার্ড বলেন, ‘এই ময়নাতদন্ত করার জন্য এখন সঠিক সময় বা স্থান নয়। এই মুহূর্তে সব সিদ্ধান্তই হবে আবেগতাড়িত। সব দিক চিন্তা করেই আমাদের এগোতে হবে। সবারই এখন একটু সময় ও বিশ্রামের প্রয়োজন, যাতে দলগতভাবে বসে ঠাণ্ডা মাথায় ভুলগুলো খুঁজে বের করা যায়। তবেই ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। এখন এখানে বসে যদি বলি এটা করা উচিত ছিল বা ওটা করা উচিত ছিল, তবে ম্যানেজমেন্টের জায়গা থেকে সেটা হবে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা।’

মৌসুমের এই ব্যর্থতা নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি যখন পর্যালোচনায় বসবে, তখন তা বেশ ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ’ হবে বলেই আশা করছেন পোলার্ড।

২০২০ সালের পর থেকে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের কোনো শিরোপা না জেতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবাইকে একটু সময় নিয়ে ভাবতে হবে যে আসলে দলের কী প্রয়োজন। আমরা বেশ কিছুদিন ধরে ট্রফি জিতিনি এবং দল হিসেবে আমরা এই সত্যটি মেনে নিয়েছি। আগের ব্যর্থতার সঙ্গে আরেকটি হতাশাজনক মৌসুম যোগ হলো। তাই এটি নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনার প্রয়োজন আছে।’

এবারের পুরো মৌসুমে বারবার দুটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—হার্দিক পান্ডিয়ার অধিনায়কত্ব এবং জাসপ্রিত বুমরাহর উইকেট খরা।

মৌসুমের আগে খেলোয়াড় ধরে রাখা (রিটেনশন) ও ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পোলার্ড বলেন, ‘যদি আমরা ১২ মাস পেছনে তাকাই, আমরা তৃতীয় [আইপিএল ২০২৫-এ চতুর্থ] হয়েছিলাম। তাই সেই পারফরম্যান্সই আগের কিছু পরিবর্তনের যৌক্তিকতা প্রমাণ করে। এখন নবম স্থানে শেষ করার পর আপনি সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইবেন না। আমার মনে হয়, এই ধারাবাহিকতার অভাব থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে এবং কৌশলগতভাবে কোথায় উন্নতি করা দরকার তা বুঝতে হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আর নেতৃত্বের জায়গা থেকে বলতে গেলে, হ্যাঁ, হার্দিক একজন ব্যক্তি হিসেবে যেভাবে চেয়েছিলেন হয়তো সবকিছু সেভাবে হয়নি। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত যে, তাকে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নেতৃত্ব দেওয়ার এবং ভালো করার সেরা সুযোগ করে দিতে আমরা সম্ভাব্য সব রকম চেষ্টা করেছি। আবারও বলছি, এখানে বসে কেউ কারও দিকে আঙুল তুলবে না। যখন আপনি হারবেন, তখন বিষয়টিকে দলগতভাবে দেখতে হবে। খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই। ও চেষ্টা করছিল, আমরা সবাই চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু আমাদের ভাগ্য সহায় ছিল না।’

এদিকে, ২০১৫ সালের পর উইকেটের দিক থেকে বুমরাহর সবচেয়ে বাজে মৌসুম কেটেছে এবার। সেবার মাত্র ৪ ম্যাচ খেলে ৩টি উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। এবার তার ইকোনমি রেট চমৎকার (৮. ৩৭) হলেও পুরো মৌসুমে পেয়েছেন মাত্র ৪টি উইকেট।

পোলার্ড বলেন, ‘সত্যি বলতে, [টি-টোয়েন্টি] বিশ্বকাপের পর ও কিছুটা চোট (নিগল) নিয়ে দলে এসেছিল। আমরা তা সামলানোর চেষ্টা করেছি। ফিটনেসের দিক থেকে ও নিজের সেরা অবস্থায় ছিল না। তবে ও মাঠে নেমে দলের জন্য অবদান রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।’

১৩টি ম্যাচ খেলার পর, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মৌসুমের শেষ ম্যাচে বুমরাহকে দলের বাইরে রাখা হয়।

পোলার্ড বলেন, ‘তাকে খেলালে বড়জোর আমরা দুটি পয়েন্ট পেতাম। তা দিয়ে আমাদের কী হতো? মাঝে মাঝে খেলোয়াড়কে বুঝতে হয় এবং এই মুহূর্তে তার জন্য কী প্রয়োজন তা ভাবা জরুরি। দল নির্বাচনের জায়গা থেকে আমাদের মনে হয়েছে আজ তার খেলাটা ঠিক হবে না। আমাদের বেঞ্চে অন্য খেলোয়াড়রা ছিল। আমাদের বোলিংয়ে গভীরতা আছে, তরুণ ক্রিকেটাররা আছে। তাই নতুন কিছু চেষ্টা করার মধ্যে আমি ভুল কিছু দেখি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাই এটা নিয়ে জলঘোলা না করাই ভালো। এটি মৌসুমের শেষ ম্যাচ ছিল। এমন তো নয় যে আমরা প্লে-অফের জন্য কোয়ালিফাই করতে পারতাম। তাছাড়া ও ভারতীয় ক্রিকেটের এক অমূল্য সম্পদ। তাই মাঝে মাঝে আপনাকে বুদ্ধিমানের মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’