বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে জিম্বাবুয়ের উৎসব
জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে সুখবর নেই বহুদিন ধরে। বিশ দলের সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা করতে না পেরে দলটি। তলানি থেকে নেমেছিল আরও তলানিতে। ভারতের তরুণ তারকাদের ১৩ রানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে শুভসূচনা করলো এবার জিম্বাবুয়ে। যে জয় তাদের ক্রিকেটমহলে দীর্ঘ খরার পর এক পশলা বৃষ্টির মতো যেন! শনিবার তাই উৎসবেই ছেয়ে গেছে হারারে স্পোর্টস ক্লাব।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ের প্রথম সাত ব্যাটারের পাঁচজন দুই অঙ্কের রানে পৌঁছেছেন, যদিও কেউই ইনিংসকে ৩০ রানের বড় করতে পারেননি। ৯ উইকেটে ১১৫ রানের পুঁজি গড়ে ফিল্ডিংয়ে নেমে এরপর তারা ভারতের অবস্থা আরও নাজেহালই করে দেন। প্রথম ছয় ভারতীয় ব্যাটারের মধ্যে একমাত্র শুবমান গিল ত্রিশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলেন। সাতে নামা ওয়াশিংটন সুন্দরের আরেকটি ত্রিশোর্ধ্ব রানের ইনিংস তাদের নিয়ে যায় ১৯.৫ ওভারে ১০২ রান পর্যন্ত। জিম্বাবুয়ের প্রত্যেক বোলার পেয়েছেন উইকেটের দেখা। টেন্ডাই চাতারা ও সিকান্দার রাজা নিয়েছেন সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট।
রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই অভিষিক্ত অভিষেক শর্মা আউট হন শূন্য রানে। এদিন অভিষেক হওয়া আরও দুজনও ফিরে যান দ্রুতই। রিয়ান পরাগ ২ রান ও ধ্রুব জুরেল করতে পারেন ৬ রান। জুরেল যখন দলীয় ৪৩ রানে ফিরছেন সাজঘরে, ততক্ষণে ৫ উইকেট হারিয়ে ভারত বিপদের মহাসাগরে। একে নামা রুতরাজ গায়কোয়াড় ৭ ও রিঙ্কু সিং বিদায় নেন রান ছাড়াই। টেন্ডাই চাতারা ও ব্লেসিং মুজারাবানির তোপে ২২ রানে চার উইকেট হারায় ভারত।
লক্ষ্য তাড়ায় ভারতের আশার ঘরে বাতি জ্বালিয়ে রেখেছিলেন গিল। কিন্তু অধিনায়ক গিল ২৯ বলে ৫ চারে ৩১ রানে ফিরে যান দলকে ৪৭ রানে রেখে। এরপর রবি বিশ্নোই ও আভেশ খান যথাক্রমে ৯ ও ১৬ রান করে ব্যবধান কমাতে রাখেন অবদান। সুন্দর একাই লড়াই চালিয়ে যান। তবে শেষ পর্যন্ত তার ২৭ রানের ইনিংস ভারতকে নিয়ে যেতে পারে ১০২ রান পর্যন্ত। এক বল বাকি থাকতে তিনি শেষ উইকেট হয়ে ফিরে যান একটি করে চার ও ছক্কায় গড়া ৩৪ বলের ইনিংস খেলে। ১৬ রানে ৩ উইকেট নেন চাতারা, সমান উইকেট পেতে রাজা খরচ করেন ২৫ রান।
এর আগে ভারত বোলিংয়ে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেটের দেখা পেয়ে যায়। মুকেশ কুমারের বলে বোল্ড হয়ে ইনোসেন্ট কাইয়া ফিরে যান শূন্য রানে। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের সবচেয়ে বড় ৩৪ রানের জুটি এরপর ভেঙে দেন রবি বিশ্নোই এসে। ব্রায়ান বেনেট ৫টি চারে ১৫ বলে ২২ রানে আউট হন। ওপেনিংয়ে নামা ওয়েসলি মাধেভেরেও তার ইনিংস ২১ রানের বড় করতে পারেননি। ২২ বলে তিনটি চার মেরে তিনি যখন ফিরছেন বিশ্নোইয়ের শিকার হয়ে, ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়ে ফেলে জিম্বাবুয়ে।
এরপর অধিনায়ক সিকান্দার রাজার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টাও বেশিক্ষণ টিকেনি। আভেশ খানকে বড় শট মারতে গিয়ে আউটফিল্ডে তিনি ধরা পড়েন ১৯ বলে ১৭ রানে। জিম্বাবুয়ের দুর্গতি বেড়ে যায় জোনাথন ক্যাম্পবেল এসে রান আউট হয়ে গেলে। ০ রানে তিনি ফেরার পর ডিয়ন মায়ার্স কিছুক্ষণ এগিয়ে নিয়ে যান দলকে। কিন্তু ২২ বলে ২টি চারে ২৩ রানে যখন ফিরেন এই ডানহাতি ব্যাটার, এরপরই উইকেটের মিছিল শুরু হয়ে যায়। ১ রানে আরও তিন উইকেট হারালে ৯০ রানে ৯ উইকেট পড়ে যায় জিম্বাবুয়ের। ১৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বিশ্নোই তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার গড়েন।
১৬তম ওভারে অলআউটের দ্বারপ্রান্তে চলে আসা জিম্বাবুয়েকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যান ক্লাইভ মাদান্দে। তার ২৫ বলে দুটি চারে গড়া ২৯ রানের ইনিংসে ভর করে ১১৫ রান পর্যন্ত যেতে পারে জিম্বাবুয়েনরা। যে সংগ্রহকেই বোলারদের নৈপুণ্যে যথেষ্ট প্রমাণ করে হারারেতে উৎসবে মেতেছে জিম্বাবুয়ে।