ব্যাটারদের সামনে এবার কঠিন চ্যালেঞ্জ
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে উড়তে থাকা বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে যে আরও কঠিন লড়াইয়ে পড়বে তা অনুমেয়। সেই লড়াইয়ের ঝাঁজ বেশি টের পাবেন ব্যাটাররা। পাকিস্তানের তুলনায় ভারতের বোলিং আক্রমণ শক্তিশালী। সেই সঙ্গে ভূমিকা থাকবে উইকেট, কন্ডিশন আর বলের ধরণেরও।
১৯ সেপ্টেম্বর থেকে প্রথম টেস্টের ভেন্যু চেন্নাইর চিদাম্বরম স্টেডিয়াম। ঐতিহ্যগতভাবে এই মাঠ স্পিন সহায়ক। বেশিরভাগ সময় উপমহাদেশের বাইরের দলগুলোকে এই মাঠে দিশেহারা করেন ভারতীয় স্পিনাররা। তবে চেন্নাইতে শুরুতে ব্যাটাররাও সহায়তা পান, বড় রানও হয়। সাম্প্রতিক সময়ে পেসারদের ভালো করতেও দেখা গেছে।
বাংলাদেশের জন্য ভারত কি ধরণের পিচ বানাবে তা দেখার বিষয়। এই ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে দ্য ডেইলি স্টারকে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি বাংলাদেশের সাবেক পরামর্শক শ্রিধরণ শ্রীরাম, যিনি কিনা নিজেও চেন্নাইর মানুষ, 'অনেকেই আমাকে চেন্নাইর উইকেট নিয়ে জিজ্ঞেস করেছেন। সত্যিই আমি জানি না, এখন যুক্তরাজ্যে আছি। আইপিএলের পর কিছু জানি না। যেকোনো কিছু হতে পারে। দেখার বিষয় উইকেটের আশেপাশে কতটা ঘাস রাখা হয়। আমি জানি না ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট কি চায়।'
বোলিং ভান্ডারে সব ধরণের অস্ত্রই অবশ্য আছে ভারতের৷ বিশ্রাম পার করে ফিরেছেন পেসার জাসপ্রিট বুমরাহ, আছেন মোহাম্মদ সিরাজ। দুজনেই স্যুয়িং করাতে ওস্তাদ। টপ অর্ডারে পাঁচ বাঁহাতি থাকা বাংলাদেশকে স্যুয়িংয়ে ভুগতে দেখা গেছে। বাঁহাতি ব্যাটাররা রাওয়ালপিন্ডিতে খুররম শাহজাদের ভেতরে ঢোকা বলে বারবার আউট হয়েছেন। এই দুর্বলতা দেখে একই উপায়ে হানা দিতে পারেন সিরাজরা। বাঁহাতিদের চিন্তা বাড়াতে আছেন রবীচন্দ্রন অশ্বিন। এই অফ স্পিনারের চেন্নাইর মাঠে রেকর্ড ঈর্ষণীয়।
পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞ স্পিনার না থাকায় স্পিনে বড় পরীক্ষা হয়নি নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। ভারতের অশ্বিন ছাড়াও আছেন রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদব, অক্ষর প্যাটেলের মতন স্পিনার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও গত মার্চে স্পিনে বেশ নড়বড়ে অবস্থা দেখা গেছে বাংলাদেশের। এবার তাদের চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন।
ভারত সিরিজের প্রস্তুতি নিতে ছন্দে থাকা ব্যাটার বিশেষ করে বলেছেন বলের ধরণ নিয়ে। টেস্ট বাংলাদেশ খেলে মূলত কোকাবুরা বলে। পাকিস্তানেও ছিলো কোকাবুরা বল। ভারতে খেলতে হবে এসজি বলে। লিটনের মতে কোকাবুরা বল একটু পুরনো হলেই খেলা সহজ হয়ে যায়। এসজির বেলায় ভিন্ন। পুরনো হলেও এসজি বল সামলানো বেশ শক্ত। বরং নতুন বলেই রান বাড়ানো হয় সহজ। লিটনের আভাস ভারতে মিডল অর্ডার ব্যাটাদের পরীক্ষাই বড়।
তব সব পরীক্ষার কথা মাথায় নিয়ে সেরা অবস্থায় ভারতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। তাদের লক্ষ্য এবার আগের সব ইতিহাস বদলে দেয়ার।