সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ
বিনা উইকেটে ১০৯ থেকে আচমকা সেই স্কোর পরিণত হলো ১১৮ রানে। সহজ জয়ের হাতছানি থেকে এক পর্যায়ে দেখা দিল হারের শঙ্কা। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। রিশাদ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহানের গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে ম্যাচ জিতে নিল বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার শারজায় সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে জাকের আলি অনিকের দল। ১৫২ রানের লক্ষ্য ৮ বল আগেই পেরিয়ে জিতেছে টাইগাররা। তিন ম্যাচ সিরিজে এগিয়ে গেছে ১-০ ব্যবধানে।
দলের জয়ের বড় কাজ করে দেন আসলে দুই ওপেনার। দুজনের জুটিতে ১১.৩ ওভারে চলে আসে ১০৯ রান। পারভেজ দুবার সহজ জীবন পেয়ে করেন ৩৭ বলে ৫৪ রান, তানজিদ ৩৭ বল খেলে করেন ৫১।
এশিয়া কাপে সর্বশেষ দেখায় রোমাঞ্চ জাগানো ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়েছিলো বাংলাদেশ। সুপার ফোরে উঠে পরে না পারলেও আফগানদের বিপক্ষে দাপট ঠিকই বজায় থাকল। বারবার রঙ বদলানো ম্যাচেও শেষ হাসি বাংলাদেশের।
১৫২ রানের লক্ষ্যে শুরুটা কিছুটা সতর্ক ধাঁচের হলেও ক্রমশ ডানা মেলেন দুই ওপেনার। পারভেজকে ভাগ্যবান বলতে হবে,মোহাম্মদ নবির এক ওভারে দুইবার ক্যাচ উঠিয়ে বেঁচে যান তিনি।
জীবনটা অবশ্য কাজে লাগিয়েছেন দারুণভাবে। তিনটা করে চার-ছক্কায় ফিফটি স্পর্শ করেন ৩৫ বলে। আরেক ওপেনার তানজিদ ফিফটিতে পৌঁছান ৩৪ বলে, ততক্ষণে তার ব্যাট থেকেও আসে সমান তিনটা করে চার-ছক্কা ।শারজার ছোট মাঠে বড় বড় ছক্কায় ম্যাচ একপেশে করে দেন দুজন।
পেসার ফরিদ মালিকের বলে পারভেজের বিদায়ে ভাঙে ১০৯ রানের জুটি। পরের ওভারে রশিদ এসে সাইফ হাসান ও তানজিদকে আউট করে লড়াইয়ের আভাস দেন। আফগান অধিনায়ক তার পরের ওভারে জাকের আলি অনিক ও শামীম হোসেনকেও এলবিডব্লিউতে বিদায় করে দিলে ম্যাচ জমে উঠে। নুর আহমেদ এসে তানজিম হাসান সাকিবকে আউট করলে ম্যাচ মনে হচ্ছিলো হেলে গেছে আফগানিস্তানের দিকেই।
শেষ ১৮ বলে দরকার ছিলো ২৭ রানের। আজমতুল্লাহ ওমরজাইর ওভারে সোহান দুই ছক্কায় সহজ করে দেন ম্যাচ। এর আগে ফরিদ আহমেদকে চার মারা রিশাদ হোসেন বাউন্ডারিতে খেলা শেষ করে দেন।
টস জিতে আগে ব্যাটিং বেছে নেওয়া আফগানিস্তান ইনিংসে চতুর্থ ওভারে প্রথম ধাক্কা দেয় বাংলাদেশ। নাসুম আহমেদকে সরে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন ইব্রাহিম জাদরান। পরের ওভারে সেদিকুল্লাহ অতল কাবু হন তানজিম হাসান সাকিবের। ছন্দহীন রাহমানুল্লাহ গুরবাজ তিনে নেমে নেন দায়িত্ব। দারবিশ রাসুলি, মোহাম্মদ ইশাকদের রান না পাওয়ার দিনে ইনিংস টেনে নিচ্ছিলেন তিনি, রানের চাকা শ্লথ হলে পরে বাড়ান গতিও। যদিও গতি বাড়াতে গিয়েই তানজিমের স্লোয়ারে ক্যাচ তুলে ৩১ বলে ৪০ করে বিদায় তার।
আজমাতুল্লাহ ওমরজাইর উপর অনেক আশা ছিলো আফগানদের। ছন্দে থাকা ব্যাটার রিশাদ হোসেনের লেগ স্পিনে গতি গড়বড় করে ক্যাচ উঠিয়ে থামেন। শেষ দিকে রান বাড়ানোর কারিগর মোহাম্মদ নবি। তাসকিন আহমেদের এক ওভারে তিন ছক্কায় দলকে দেখান লড়াইয়ের, ওই ওভারেই অবশ্য ক্যাচ উঠিয়ে বিদায় তার (২৫ বলে ৩৮)।
শেষ ওভারে গুরুত্বপূর্ণ ছয়-চার মেরে দলকে দেড়শো পার করান শারাফুদ্দিন।
তবে রাতের আলোয় বল কিছুটা ভিজে আসায় এই পুঁজি এক পর্যায়ে মামুলি দেখাচ্ছিলো। বাংলাদেশের দুই ওপেনারকে আলগা করার পর অবশ্য ব্যাটিং ধসে তৈরি হয় রোমাঞ্চ। যদিও তা শেষ ওভার পর্যন্ত টেকেনি।