'মেসির দারুণ একটি মৌসুম না কাটার কোনো কারণ নেই'
ফরাসি লিগ ওয়ানের নতুন মৌসুমে পিএসজির শুভ সূচনায় ঝলমলে পারফরম্যান্স দেখালেন লিওনেল মেসি। ক্লেমোঁর বিপক্ষে ম্যাচের শেষদিকে তার পা থেকে মিলল জোড়া গোল, যার একটি ওভারহেড কিকে। শুরুতেই আর্জেন্টাইন মহাতারকার এমন নৈপুণ্য আশাবাদী করে তুলেছে ক্লাবটির কোচ ক্রিস্তফ গালতিয়েকে। কারণ, গোলের হিসেবে আগের মৌসুমটা একদমই ভালো কাটেনি রেকর্ড সাতবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী মেসির।
শনিবার রাতে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের মাঠে ৫-০ গোলে জিতেছে লিগ ওয়ানের শিরোপাধারী পিএসজি। মেসি ছাড়াও জালের ঠিকানা খুঁজে নেন নেইমার, আশরাফ হাকিমি ও মার্কুইনোস। পুরো ম্যাচে ক্লেমোঁর রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত রাখেন মেসি ও ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার। নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের তিনটি গোলে অবদান রাখেন নেইমার।
বার্সেলোনার সঙ্গে দুই দশকের বন্ধনের ইতি টেনে গত বছর পিএসজিতে পাড়ি জমান মেসি। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে তাকে বরণ করে নেয় পার্ক দে প্রিন্সেসের ক্লাবটির ভক্তরা। কিন্তু নতুন ঠিকানায় প্রথম মৌসুমে প্রত্যাশার মাত্রা ছুঁতে পারেননি তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৪ ম্যাচে ১১ গোল করেন মেসি। বিশেষ করে, লিগ ওয়ানে লক্ষ্যভেদ করতে ভীষণ কাঠখড় পোড়াতে হয় তাকে। ২৬ ম্যাচ খেলে মাত্র ৬ গোল করতে পারেন তিনি।
এবার প্রথম ম্যাচেই গত মৌসুমের লিগের এক-তৃতীয়াংশ গোল করেছেন ৩৫ বছর বয়সী মেসি। ক্লেমোঁকে বিধ্বস্ত করার পর ফরাসি গণমাধ্যম কানাল প্লাসে কাছে তার প্রশংসায় মেতেছেন পিএসজির নতুন কোচ গালতিয়ে। তার মতে, গতবারের ধাক্কা সামলে নিয়ে এই মৌসুমটা মেসির দারুণ না কাটার কোনো কারণ নেই।
'গত মৌসুমটা তার জন্য কঠিন ছিল। (পিএসজিতে যোগ দিয়ে) তাকে মানিয়ে নিতে হয়েছিল। এটা চমকে দেওয়ার মতো একটা পরিবর্তন ছিল। কারণ, এর আগের সব মৌসুমে সে অন্তত ৩০ গোল করেছিল। এবার সে প্রাক-মৌসুমের পুরোটা সময় খেলেছে। যেহেতু পারিবারিক জীবন ও ক্লাব, দুই ক্ষেত্রেই সে ভালো অবস্থায় আছে, সেহেতু মেসির দারুণ একটি মৌসুম না কাটানোর কোনো কারণ নেই।'
'(প্রাক-মৌসুমে) জাপান সফরে আমি মেসির সঙ্গে কথা বলেছি এবং আক্রমণভাগের অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গেও কথা বলেছি এটা নিশ্চিত করতে যে সে যেন সব সময় ভালো পারফর্ম করতে পারে। তার ট্যাকটিক্যাল জ্ঞান অনেক তীক্ষ্ণ ও খুবই স্পষ্ট। তার দূরদর্শিতা রয়েছে। (মাঠে) তাকে কোথায় থাকতে হবে তা সে খুব দ্রুত বুঝতে পারে। সে এমন একটা পরিবেশে আছে, যেখানে সে থাকতে পছন্দ করে। সতীর্থদের চারিদিকে রেখে খেলতে পছন্দ করে সে। যখন মেসি হাসে, তখন দলও হাসে।'