মেসিকে পাস দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখালেন এমবাপে
নিষেধাজ্ঞা ও চোটের কারণে পিএসজির হয়ে নতুন মৌসুমের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপে। মঁপেলিয়ে বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফিরলেও ঠিক চেনা রূপে ছিলেন না তিনি। মাঠে বিশ্বকাপজয়ী এই ফরাসি স্ট্রাইকারের ফিটনেস ঘাটতির অভাব ছিল স্পষ্ট। তাছাড়া, প্রথমার্ধের শেষদিকে একটি পাল্টা আক্রমণের সময় ভিতিনহা তাকে খুঁজে না নিয়ে লিওনেল মেসিকে পাস দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এমবাপে।
শনিবার রাতে পার্ক দে প্রিন্সেসে ফরাসি লিগ ওয়ানের ম্যাচে মঁপেলিয়েকে ৫-২ ব্যবধানে হারায় আসরের শিরোপাধারী পিএসজি। আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর তাদের পক্ষে জোড়া গোল করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার। প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন এমবাপে। শেষদিকে নিশানা ভেদ করেন বদলি নামা রেনাতো সানচেস। সফরকারীদের দুই গোলদাতা হলেন ওয়াহাবি খাজরি ও এঞ্জো চাতো।
পায়ের পেশির চোট থেকে সেরে উঠে পিএসজির শুরুর একাদশে জায়গা করে নেন এমবাপে। মঁপেলিয়ের ডি-বক্সে জর্দান ফেরির হাতে বল লাগায় রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে ২৩তম মিনিটে স্পট-কিক নিতে এগিয়ে যান তিনি। কিন্তু তার শট রুখে দেন গোলরক্ষক ইয়োনাস ওমলিন। এই হতাশা কাটিয়ে ৬৯তম মিনিটে গোলদাতাদের তালিকায় নাম ওঠান এমবাপে। সতীর্থের কর্নার প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা ফেরাতে না পারলে ডি-বক্সের ভেতর থেকে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। তবে গোল উদযাপন করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
এর আগে পাল্টা আক্রমণে ওঠার সময় ভিতিনহা মেসিকে বল বাড়ালে এমবাপেকে বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়। ক্ষোভে হাত ছুঁড়ে মাঝমাঠের একটু সামনে দাঁড়িয়ে যান তিনি। ওই আক্রমণে আর অংশ নেননি তিনি। এই কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিএসজির অনেক ভক্ত-সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েছেন এমবাপে। তার আচরণকে অসম্মানজনক বলছেন তারা।
লিগে টানা দ্বিতীয় জয়ের পর ফরাসি গণমাধ্যম কানাল প্লাসের মুখোমুখি হন পিএসজির কোচ ক্রিস্তফ গালতিয়ে। অনুমিতভাবে তার কাছে প্রশ্ন রাখা হয় এমবাপের ওই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া নিয়ে। তবে বিষয়টিকে গুরুতর কিছু হিসেবে বিবেচনা করতে নারাজ তিনি। তার মতে, ফিটনেসের দিক থেকে সতীর্থদের চেয়ে পিছিয়ে থাকাই এমবাপের ক্ষোভের কারণ, 'সে একজন লড়াকু ব্যক্তি। সে ভালো করতে চায় এবং সেটা যত দ্রুত সম্ভব। কিন্তু একজন সেরা মানের ফুটবলারের পক্ষে সবসময় তা করা হয়ে ওঠে না। শারীরিক সামর্থ্যের শতভাগ ফিরে পেতে তার কিছুটা সময় লাগবে।'
'যখন সে পুরো ফিট থাকবে, সে ম্যাচে আরও বেশি করে পার্থক্য তৈরি করে দেবে। সে এমন একজন খেলোয়াড় যে গোল করতে পছন্দ করে, গোল করতে চায় ও আক্রমণ করে। সতীর্থদের চেয়ে এই মুহূর্তে শারীরিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে থাকায় হতাশ হওয়াটা তার জন্য মোটামুটি স্বাভাবিক।'
উল্লেখ্য, দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ ওয়ানের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে পিএসজি। সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট করে পেয়ে গোল ব্যবধানে লিল দুইয়ে ও মোনাকো তিনে অবস্থান করছে। আটে থাকা মঁপেলিয়ের অর্জন দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট।