এমবাপের হ্যাটট্রিক, নেইমারের জোড়া গোল, লক্ষ্যভেদ মেসিরও
আক্রমণভাগের তিন তারকা একসঙ্গে জ্বলে ওঠায় গোলের উৎসব করল পিএসজি। কিলিয়ান এমবাপে, নেইমার ও লিওনেল মেসির নৈপুণ্যে লিলকে রীতিমতো বিধ্বস্ত করল ক্রিস্তফ গালতিয়ের শিষ্যরা।
রোববার রাতে প্রতিপক্ষের মাঠে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে ফরাসি লিগ ওয়ানের শিরোপাধারী পিএসজি। আসরে দ্রুততম গোলের রেকর্ডের পাশাপাশি হ্যাটট্রিকের স্বাদও নেন ফরাসি স্ট্রাইকার এমবাপে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার করেন জোড়া গোল। পাশাপাশি সতীর্থদের তিনটি গোলে অবদান রাখেন তিনি। একটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করেন মেসি ও আশরাফ হাকিমি।
লিগ ওয়ানের এবারের আসরে মাত্র তিন ম্যাচ খেলে প্রতিপক্ষের জালে ১৭ বার বল পাঠিয়েছে পিএসজি। ক্লেঁমোর বিপক্ষে ৫-০ গোলে জিতে মৌসুম শুরুর পর মঁপেলিয়েকে তারা হারায় ৫-২ গোলে। আর ২০২০-২১ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন লিল তাদের কাছে পাত্তা পায়নি একেবারেই। পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে প্যারিসিয়ানরা।
মঁপেলিয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর এমবাপের সঙ্গে নেইমার ও মেসির সম্পর্ক ও বোঝাপড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। বেশ কিছু ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়েছিল ভাইরাল। তাতে মনে হচ্ছিল, বাকি দুই তারকার সঙ্গে ঝামেলা বেঁধেছে এমবাপের। কিন্তু পিএসজির কোচ গালতিয়ের দাবি ছিল, কোনো অস্বস্তিকর অবস্থা নেই দলে। সেটার প্রমাণই যেন মিলেছে মাঠে।
কিক-অফের পর অষ্টম সেকেন্ডেই এগিয়ে যায় পিএসজি। মাঝমাঠ থেকে মেসির চমৎকার থ্রু বলে ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে গোলরক্ষক লিও জার্দিমের মাথার উপর দিয়ে জাল খুঁজে নেন এমবাপে। লিগ ওয়ানে এটি যৌথভাবে দ্রুততম গোলের রেকর্ড। আগের কীর্তিটি হয়েছিল ৩০ বছর আগে। ১৯৯২ সালে কাঁয়ের হয়ে কানের বিপক্ষে ৮ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন মিচেল রিও।
১৭তম মিনিটে মেসি নিশানা ভেদ করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। তবে দশ মিনিট পরই কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যান তিনি। নুনো মেন্দেসের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠান মেসি।
নেইমারের কাছ থেকে বল পেয়ে হাকিমি ব্যবধান বাড়ান ৩৯তম মিনিটে। চার মিনিট নেইমার নিজেই মাতেন গোলের উল্লাসে। মেসির পাস লিলের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পাল্টানোর পর পেয়ে যান তিনি। বাকিটা সারতে বেগ পেতে হয়নি তাকে। বিরতির পর খেলা শুরুর সপ্তম মিনিটে ফের গোল করেন নেইমার। তাকে বলের যোগান দেন হাকিমি।
৫৪তম মিনিটে জোনাথান বামবার লক্ষ্যভেদে ব্যবধান কমায় লিল। কিন্তু তাদের দুর্দশার আরও বাকি ছিল তখনও। ৬৬তম মিনিটে স্কোরলাইন ৬-১ করেন এমবাপে। নেইমারের কাছ থেকে ফিরতি বল পেয়ে ডি-বক্সের ভেতর থেকে জার্দিমকে পরাস্ত করেন তিনি। এরপর ৮৭তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয় এমবাপের। পাল্টা আক্রমণে নেইমার তাকে খুঁজে নিলে স্বাগতিকদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন তিনি।
