৪ বছরের নিষেধাজ্ঞার পর ফিরছে রাশিয়া?
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কার্যত নির্বাসিত হয়েছিল দেশটি। ২০২২ সাল থেকে রুশ জাতীয় দল ও ক্লাবগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। তবে চার বছরের বেশি সময় পর সেই অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
বৃহস্পতিবার আজারবাইজানে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফুটবল উৎসবের ঘোষণা দিয়েছে ফিফা। আগামী ২২ থেকে ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতা সম্পর্কে সংস্থাটি জানিয়েছে, এটি ফিফার সব সদস্য দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আর এতেই রাশিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যদিও ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার নাম উল্লেখ করেনি, তবু সংস্থার এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে প্রতিযোগিতাটি 'ফিফার সব সদস্য ফেডারেশনের জন্য উন্মুক্ত'। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর বিস্তারিত তালিকা পরে ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
ফিফার এই অবস্থানকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছে রাশিয়া। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী মিখাইল দেগতিয়ারেভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, 'রাশিয়া জাতীয় দলকে বিশ্বকাপ ও ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ উৎসবে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। আন্তর্জাতিক খেলাধুলায় রুশ দলগুলোর প্রত্যাবর্তনের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।'
ইউক্রেন যুদ্ধের পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ হয়েছিল রাশিয়া। যদিও ফিফা কখনোই রাশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সদস্যপদ স্থগিত করেনি। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা এখনও ফিফার সদস্য দেশ হিসেবেই রয়েছে।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও বেলারুশের ক্রীড়াবিদদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে শিথিল হওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, ফিফার এই পদক্ষেপও তারই অংশ।
গত মে মাসে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) বেলারুশের ক্রীড়াবিদদের জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের অধীনে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুপারিশ করে। যদিও রাশিয়ার ক্ষেত্রে তখনও কিছু বিধিনিষেধ বহাল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশন ইতোমধ্যেই আরও একধাপ এগিয়ে গেছে। জিমন্যাস্টিকস, জুডো ও সাঁতারের মতো কয়েকটি খেলায় রাশিয়া ও বেলারুশের ক্রীড়াবিদরা জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের অধীনেই অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।
রাশিয়ার যুব দলকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা অনূর্ধ্ব-স্তরের রুশ দলগুলোকে প্রতিযোগিতায় ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে ইউক্রেন, ইংল্যান্ড, পোল্যান্ড, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়েসহ একাধিক দেশের বয়কটের হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয় তারা।